বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আদালত খারিজ করে দেয়ার প্রতিবাদ এবং অবিলম্বে তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। দলের পূর্বঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ রবিবার ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির উদ্যোগে বাড্ডার সুবাস্তু নজরভ্যালী টাওয়ারের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মিছলটি ফুজি টাওয়ারের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পুলিশ মিছিলে ধাওয়া দিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানিয়েছে বিএনপি। সংক্ষিপ্ত পথসভায় রুহুল কবির রিজভী বলেন, ভয়াবহ অসুস্থ বেগম জিয়াকে জেলে রেখে হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এ কারণে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। এই মিডনাইট সরকারের পতন ঘটাতে না পারলে নেত্রীকে মুক্ত করা সম্ভব নয়।
রিজভী বলেন, আজকে দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই। গণমাধ্যমের মতপ্রকাশ ও মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হয়েছে। কারো সাথে কারো মতের মিল না থাকতে পারে। রাজনীতিতে ভিন্ন ভিন্ন মত থাকবে এটা স্বাভাবিক। তাই বলে দৈনিক সংগ্রামের মতো প্রাচীন পত্রিকার কার্যালয়ে ঢুকে সন্ত্রাসী কায়দায় হামলা ও সম্পাদককে টেনে হিঁচড়ে বের করে আনার চরম ফ্যাসিবাদী শাসনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার অভিযোগ করে যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, জিয়াউর রহমানকে জড়িয়ে মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। ১৯৭৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সফিউল্লাহ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব্ব পালন করেন। সেসময়ই তো শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত ১৬ বছর কেএম সফিউল্লাহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। এরমধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া, কানাডা, সুইডেন আর ইংল্যান্ড। ১৯৯৫ সালে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন। কই, প্রধানমন্ত্রী তো সে বিষয়ে কিছু বলেননি!
রিজভী বলেন, সেসময় শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপরিবারে হত্যাকাণ্ডের পর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরই বহু নেতা তাদের আত্মতৃপ্তির কথা বলেছিলেন। তাদেরই একজন আব্দুল মালেক উকিল লন্ডনে থাকাবস্থায় বলেছিলেন যে, “ফেরাউনের পতন হোক”। এমনকি খন্দকার মোশতাকের শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন তত্কালীন মন্ত্রিপরিষদ সচিব এইচটি ইমাম। আজকে যিনি প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম সিনিয়র উপদেষ্টা। কই, প্রধানমন্ত্রী তো সে বিষয়ে কিছু বলেননি। অথচ পরবর্তীতে মালেক উকিলসহ মুজিব হত্যাকাণ্ডের সমর্থনকারী বহু নেতাই তো শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, শেখ মুজিব হত্যার সমর্থনকারী বহু নেতাই আপনার নেতৃত্বে এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন। জিয়াউর রহমান সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত না হয়ে আজকে আপনি নিজের ঘরের দিকে তাকান। আমি বলবো, আগে নিজেদের চেহারা আয়নায় দেখুন আর ভাবুন যে, কারা খুনিদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন?
ইত্তেফাক/এএম
