বোর্ডের বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বইটি যেভাবে পড়লে ও পরীক্ষায় যেভাবে উত্তর প্রদান করলে ভালো হবে শিক্ষার্থী বন্ধুরা, তোমাদের অনেকের মাঝে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের ব্যাকরণ অংশে ভীতি লক্ষ করা যায় এবং যথাযথ চর্চা না করায় ফলাফল বিপর্যয়ের সম্ভাবনা থাকে । সুতরাং বাংলা দ্বিতীয়পত্রে ব্যাকরণ অংশে ভালো করার জন্য এখনই প্রস্তুতির উপযুক্ত সময় । ভালো প্রস্তুতি না নিলে ভালো ফলাফল করা সম্ভব হবে না । তাই ভালো ফলাফল করতে হলে অধ্যায়ভিত্তিক ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া আবশ্যক ।
পরীক্ষার্থী বন্ধুরা, বাংলা দ্বিতীয়পত্রের মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে ব্যাকরণ অংশে নৈর্ব্যক্তিকে ৩০ নম্বরের জন্য ৩০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন থাকে । সাধারণত ১৪ টি প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ, ৯টি প্রশ্ন মধ্যম এবং ৭টি প্রশ্ন তুলনামূলক কঠিন মানের করা হয়ে থাকে । বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বইটির প্রতিটি পৃষ্ঠা গুরুত ্বসহকারে ও ভালোভাবে পড়তে হবে । বইটিতে ৫টি অধ্যায়ে মোট ৩২টি পরিচ্ছেদ আছে । প্রশ্নপত্রে সাধারণত প্রতিটি পরিচ্ছেদ থেকেই ১টি করে প্রশ্ন রাখার চেষ্টা করা হয়ে থাকে । সুতরাং কোনো অধ্যায়ের কোনো পরিচ্ছেদকে অগুরুত্বপূর্ণ মনে করার কোনো সুযোগ নেই । এ ক্ষেত্রে কঠিন বিষয়গুলো যেমন : ধ্বনিতত্ত্ব, ধ্বনির পরিবর্তন, সন্ধি, সমাস, ধাতু, প্রত্যয়, ক্রিয়াপদ, ক্রিয়া-বিভক্তি, কারক, বাচ্য, বাক্যে পদ-সংস্থাপনার ক্রম পরিচ্ছেদগুলো বোঝে পড়তে হবে । সন্ধির ক্ষেত্রে উদাহরণ মুখস্থ না করে নিয়মগুলো বোঝার চেষ্টা করবে । বাক্য সংক্ষেপণ, বাগধারা, ণত্ব ও ষত্ব বিধান, বিপরীতার্থক শব্দের উত্তর প্রদানের সময় বানানের সঠিকতার ওপর বিশেষ দৃষ্টি রাখবে । সন্ধি, সমাস, প্রত্যয়, পুরুষ ও স্ত্রীবাচক শব্দ, ণত্ব ও ষত্ব বিধানের ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়মের পাশাপাশি নিপাতনে সিদ্ধগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে । বচন, কাল, প্রত্যয় ও বাংলা অনুজ্ঞা-তে বিশেষ নিয়মে গঠিত উদাহরণগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।
ব্যাকরণ অংশের প্রায় সকল প্রশ্নই প্রয়োগমূলক বিধায় অনুশীলন আবশ্যক । বিভিন্ন অধ্যায় ভাগ করে নিয়ে কোন অংশে কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে, সেটি বোঝে পড়বে । সকল অধ্যায় খুব মনোযোগ দিয়ে কয়েকবার পড়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় অংশগুলো মার্কার দিয়ে চিহ্নিত করে রাখবে এবং বারংবার অনুশীলন করবে ।
শেষ মুহূর্তে ভালোভাবে জন্য টেস্ট পেপার অপরিহার্য । টেস্ট পেপার থেকে প্রশ্নপত্র পরীক্ষায় আসবে না কিন্তু টেস্ট পেপার থেকে স্বনামধন্য কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র সমাধান করে পড়লে ভালো ফলাফল করা তুলনামূলক সহজতর হয় । প্রশ্নের ধারা ও ধারাবাহিকতা সম্পর্কে জানা যায় বলে প্রশ্নভীতি দূর হয়ে থাকে । পাশাপাশি চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য আরও কতটুকু ঘাটতি আছে তা সহজেই বোঝা যায় ।
ভালো ফলাফল করার জন্য প্রখর মস্তিষ্কের সাথে সাথে পরিশ্রম ও বুদ্ধিদীপ্ত পড়াশোনা করা প্রয়োজন । সেজন্য পড়ার সময় কিছু কৌশল অবলম্বন করে পড়লে তা খুবই কার্যকরী হয় ।
১. একটানা না পড়ে কিছু সময় অন্তর বিরতি নেবে একটি চারাগাছের বেড়ে ওঠার জন্য সপ্তাহে শুধু একদিন দেড় ঘণ্টা পানি দেয়ার থেকে প্রতিদিন ৫ মিনিট জল দেয়াটা অনেকটা কার্যকরী হয় । অনুরূপভাবে একটানা ৩ ঘণ্টা পড়ার থেকে সেটাকে তিনটি ভাগে ভাগ করে ১ ঘণ্টা করে পড়াটা বেশি ফলপ্রসূ হয় । তেমনি ব্যাকরণের মতো বিষয় একটানা না পড়ে বিরতি দিয়ে পড়বে ।
২. একবার পড়ে সেটা তিন বার না দেখে বলার চেষ্টা করো
অনেক সময় আমাদের মনে হয়, “হ্যাঁ, বুঝে গিয়েছি” । আর তখন তা বাদ দিয়ে অন্য কিছু পড়তে থাকি । কিন্তু পরীক্ষার সময় তা আর মনে করতে পারি না । এটাকে ইংরেজিতে ‘Fluency Illusion’ বলা হয় । এজন্য চারবার দেখে পড়ার চেয়ে একবার পড়ে সেটা না দেখে তিন বার বলার চেষ্টা করাটা বেশি কার্যকরী হয় ।
৩. নিজে পড়ে বন্ধুদের শেখানো চেষ্টা করো আমরা অনেক কিছু পড়ি কিন্তু তার বেশির ভাগই ভুলে যাই । সেজন্য যতটুকু পড়লে, ততটুকু সহপাঠী কিংবা বন্ধু-বান্ধবের সাথে একসাথে বসে পরস্পর শেখানোর চেষ্টা করবে । তাহলে ব্যাকরণের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়গুলো মস্তিষ্কে দীর্ঘস্থায়ী হবে ।
৪. পড়ার পর কিছু সময় ঘুমানো ভালো আমরা যখন ঘুমাই, তখন ঘুমের মধ্যে জরুরি তথ্যগুলি অবচেতন মনে আমাদের মস্তিষ্কে জমা হয় । তাই একটা ঘুম দেওয়ার পর আমরা নিজেদের ফ্রেশ অনুভব করি । বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমানোর প্রকৃত সময়সীমা রাত ১১টা থেকে সকাল সকাল ৬টা পর্যন্ত । যখন আমাদের মস্তিষ্ক ফ্রেশ ও এনার্জেটিক থাকে, সেই সময়টি ব্যাকরণের মতো বিষয় পড়ার উপযুক্ত সময় । তাই পরের দিন ইতিহাস, বাংলা ব্যাকরণের মতো পরীক্ষা থাকলে তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়াটা বেশি ভালো; তথ্যগুলো অবচেতন মন থেকে মস্তিষ্কে প্রক্রিয়াকরণ হওয়ার সময় পায়।
৫. অল্প হলেও বুঝে পড়ার চেষ্টা করো ব্যাকরণের কোনো অংশ কখনোই না বোঝে মুখস্থ করবে না । প্রয়োজনে অল্প অল্প করে পড়বে এবং অল্প অল্প করে বোঝতে চেষ্টা করবে ।
৬. বহুনির্বাচনি প্রশ্নের Stem I Options মনোযোগসহকারে বারংবার পড়বে
ব্যাকরণের বহুনির্বাচনি প্রশ্নের Stem I Options-এর মধ্যে খুবই সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম প্যাঁচ থাকে । তাই প্রশ্নের Stem ও Options বারংবার অত্যন্ত মনোযোগ সহকারে পড়বে যেন চোখের দৃষ্টিতে ভুল দেখার কারণে জানা উত্তর ভুল না হয়ে যায় ।
৭. বোর্ডের ব্যাকরণ বইয়ের নিয়ম ও উদাহরণগুলো অনুধাবন করার চেষ্টা করবে
‘বাংলা ভাষার ব্যাকরণ’ শিরোনামে বোর্ডের বই-তে ব্যাকরণের বিভিন্ন বিষয়বস্তুর নিয়ম ও উদাহরণগুলো অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে বোঝার চেষ্টা করবে । কখনও মূল পাঠ্যপুস্তক বাদ দিয়ে গাইড বই অনুশীলন করবে না ।
৮. ভেবে উত্তর দেয়ার মতো প্রশ্নগুলোর উত্তর শেষে দেয়ার চেষ্টা করবে
কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর তুলনামূলক কঠিনতর মনে হলে সেগুলো নিয়ে আগে ভাবার প্রয়োজন নেই । আগে সহজ প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করবে । তারপর শেষের দিকে তুলনামূলক কঠিন প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রদান করবে ।
বন্ধুরা, বাংলা ব্যাকরণের উদাহরণগুলো বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে পড়বে । যেমন একটা সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকা আবশ্যক । আকাঙ্ক্ষা, আসক্তি ও যোগ্যতা । তুমি মনে করো পরীক্ষায় প্রশ্ন হলো, ‘হাতি পানিতে বাস করে’ এই বাক্যে অর্থগত ভাবগত মিল কতটুকু ? কেন মিল নেই এর কারণ খুঁজে পেলেই তুমি উত্তর পেয়ে যাবে । ঠিক এভাবে আরও অনেক প্রশ্নোত্তর জানা যায় । তাই পড়ার সময় নিজস্ব কিছু কৌশল অবলম্বন করার চেষ্টা করবে ।
