ছয় বছর ধরে নারী ফুটবল লিগ নেই

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:১৬

দীর্ঘ ছয় বছর ধরে মাঠে গড়াচ্ছে না নারী ফুটবল লিগ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের দাবি:ক্লাবগুলোর আগ্রহ নেই। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের দাবি বাফুফেই যথেষ্ট আগ্রহী নয়। নইলে দেশে অনেক নারী ফুটবলার আছে।

আট বছর আগে ২০১১ সালে প্রথমবার আয়োজিত নারী ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। মোহামেডান হয়েছিল রানার্স-আপ। পরের বছর চার দলের করপোরেট লিগ হয়। এরপর ২০১৩ সালে ক্লাবভিত্তিক লিগে চ্যাম্পিয়ন হয় আবাহনী। তারপর ছয় বছর গড়িয়ে গেলেও লিগের কোনো খবর নেই। বয়সভিত্তিক নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা দেশের জন্য সাফল্য আনলেও তাদের লিগ খেলতে চাওয়া মিটছে না। ক্লাবভিত্তিক লিগটি চালু হলে আরো  ফুটবলারের কর্মসংস্থানও হবে। বাফুফেও তাই মনে করছে। কিন্তু লিগ শুরুর কোনো উদ্যোগ নেই।

নারী ফুটবল লিগের প্রশ্ন উঠলেই বাফুফে দাবি করে: ক্লাবগুলো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এক-দুটা ক্লাবের আগ্রহে লিগ আয়োজন করা যায় না। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের মতো যেসব ক্লাব প্রিমিয়ার ফুটবল লিগে খেলছে তারাই মূলত নারী ফুটবল দল গঠনে প্রধান উদ্যোক্তা হতে পারে। কিন্তু বাফুফে কর্মকর্তারাই সেদিকে নজর দেন না।

লিগটির দায়িত্বে আছেন বাফুফের মহিলা উইংয়ের মাহফুজা আক্তার কিরণ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লিগ নিয়ে কাজ করছি। জানুয়ারিতে হবে। যদিও সব দলের কনফার্মেশন পাইনি। তবে একই বছরে দুইবার হবে লিগ’।

বাফুফে সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ জানিয়েছেন জানুয়ারিতে লিগ আয়োজনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর আগেও এমন কথা বারবার বলা হয়েছিল কিন্তু আয়োজন মাঠে গড়ায়নি। বাফুফের দাবি: বিভিন্ন ক্লাব সার্ভিসেস দলকে লিগে খেলার আমন্ত্রণ জানানো হলেও খুব একটা সাড়া মেলেনি। বাফুফের সভাপতি কাজী সালাহউদ্দিনও একাধিক অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন লিগ আয়োজনে তাদের কোনো কার্পণ্য নেই। কিন্তু যাদের কাছেই প্রস্তাব দেওয়া হয় তারা নারী ফুটবল লিগ খেলতে অনেকেই আগ্রহ দেখান না। এরপরও তারা এই লিগটি আয়োজন করবেন।

বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান জানিয়েছেন, তারা নারী ফুটবলের জন্য নারী কোচ নিয়োগ করেছেন। দলবদলের সময় কোচ শরিফা অদিতিকেও ফুটবল ভবনে নিয়ে গিয়েছিল বসুন্ধরা কিংস। অদিতিও জানিয়েছিলেন নারী ফুটবলে বসুন্ধরা শক্তিশালী দল গড়তে চায়।

জানা গেছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব ও রংপুরের একটি দল আগ্রহ দেখিয়েছে। অপরদিকে বিজেএমসিতে প্রচুর নারী খেলোয়াড় থাকলেও বাফুফে বলছে দলটি এখনো কিছু জানায়নি। মোহামেডান এবং আবাহনীর নারী ফুটবলে আগ্রহ থাকলেও তারা এপ্রিল পর্যন্ত সময় চায়। কিন্তু বাফুফের সাধারণ সম্পাদকের দাবি: এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করা যাবে না। পাঁচটি দল হলেও তারা লিগ মাঠে গড়াবে।

 দেশে নারী ফুটবলে প্রচুর সম্ভাবনা থাকার পরও বাংলাদেশ এ খাতে আরো এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নিতে পারছে না। ফিফা এই খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়। দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী ফুটবলের জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাফুফে সেই সুযোগও নিতে পারেনি।

ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেকের মতো বাফুফে শক্ত অবস্থান নেয় না বলেই ক্লাব ফুটবলে এগুতে পারছে না। অথচ এখানে অনেক নারী ফুটবলার আছে। সম্প্রতি বসুন্ধরা ফুটবল দল গড়তে গেলে দেখা যায়  দেশের বিভিন্ন অঞ্চল  থেকে শতাধিক ফুটবলার ট্রায়ালে আগ্রহ দেখান। দলটির কোচ অদিতি বললেন, ‘কোনো বিজ্ঞাপন ছাড়াই ফোনে ফোনে মেয়েরা ট্রায়াল দিতে এসেছে।’

সম্প্রতি সমাপ্ত এস এ গেমস ফুটবলে নারী দল পাঠায়নি বাফুফে। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, সিনিয়র দল নেই। এ প্রসঙ্গে অদিতি বলেন,‘সিনিয়র দল থাকবে কিভাবে? সিনিয়র লেভেলে খেলা নেই। সিনিয়র লেভেলে খেলা না থাকার কারণে সিনিয়র ফুটবলারদের অবসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। কতো দিন বসে থাকবেন তারা। জাতীয় স্ট্রাইকার সাবিনার কথাই ধরুন। না খেলতে খেলতে সে এখন কোচের খাতায়।’