হিরোশিমায় আণবিক বোমায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন ভাঙবে জাপান

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪৪

জাপানের হিরোশিমা শহর কর্তৃপক্ষ ১৯৪৫ সালে আণবিক বোমার আঘাত সহ্য করে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি ভবন ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করেছে। তবে স্থানীয়রা এ ভবন দুটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে। ১৯১৩ সালে নির্মিত এ ভবনগুলো প্রথমে সামরিক বাহিনীর কাপড়ের কারখানা এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের আবাসিক হল হিসেবে ব্যবহূত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঐ বোমা হামলার পরপরই ভবন   দুটিকে কিছু সময়ের জন্য অস্থায়ী হাসপাতাল হিসেবেও ব্যবহার করা হয়েছিল।

হিরোশিমার ঐ বোমায় বেঁচে যাওয়া এক জাপানি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্র বিলুপ্তির প্রচারে এ স্থাপনাগুলো ব্যবহার হতে পারে। মার্কিন বোমারু বিমান বি-২৯ থেকে ফেলা ‘লিটল বয়’ তাত্ক্ষণিকভাবেই ৮০ হাজার লোকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, গুরুতর আহত করেছিল আরো ৩৫ হাজার বাসিন্দাকে। আণবিক বোমাটি শহরের অধিকাংশ এলাকা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিলেও কিছু ভবনকে টলাতে পারেনি। বোমা পড়ার স্থান ‘গ্রাউন্ড জিরো’ থেকে আশপাশের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে এ ধরনের বেশ কিছু ভবনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। গত বছর পর্যন্ত এ রকম ৮৫টি ভবনের সন্ধান পাওয়া গেছে, যেগুলো নির্মিত হয়েছিল ১৯৪৫ সালের আগস্টের আগে। হিরোশিমা কর্তৃপক্ষ এখন যে দুটি ভবন ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করছে সেগুলো নির্মিত হয়েছিল শক্তিশালী কংক্রিটে। আণবিক বোমা ভবনটির ধাতব জানালা এবং দরজার সামান্য ক্ষতি করেছিল। তবে শক্তিশালী যে কোনো ভূমিকম্পে স্থাপনা দুটি ধসে পড়তে পারে—২০১৭ সালের এক পরীক্ষায় এমনটি ধরা পড়ার পর হিরোশিমা শহর কর্তৃপক্ষ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবাহী এ দুই ভবন ২০২২ সালের মধ্যে ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়।—বিবিসি