ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চে মুখোশধারীদের হামলা

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪৭

বিজয় দিবসে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের প্রাক্কালে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুর্বৃত্তরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করে। ৮-১০ জন মুখোশ পরিহিত দুর্বৃত্ত মঞ্চ, অতিথিদের বসার জন্য রাখা চেয়ারসহ বিভিন্ন জিনিস গুঁড়িয়ে দেয়। গতকাল সোমবার সকাল সোয়া ৯টায় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে পাবনার ঈশ্বরদীতে পৌরসভা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজয় শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে গতকাল দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া ও পালটা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মী, সাংবাদিকসহ ২০ জন আহত হন। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া :হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে তাত্ক্ষণিক উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম ও মুক্তিযোদ্ধারা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, যারা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি গুঁড়িয়ে দিয়েছে, তারা হলো প্রকৃত রাজাকার। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতার নির্দেশে এই হামলা করা হয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, ‘ভাঙচুর  সম্পর্কে জানি না। বিএনপির মিছিল যাওয়ার সময় এটা করেছে। ভাঙচুরের সঙ্গে আমাদের                কোনো সম্পর্ক নেই। সবকিছুতেই তারা আমাকে দোষে।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমরা এ ঘটনার তদন্ত করছি। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঈশ্বরদী (পাবনা) :আহতদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পরপরই শহরে র্যাব, ডিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। গতকাল বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে সাবেক ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ এমপির পক্ষে ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগ এবং পৌরসভার ব্যানারে ঈশ্বরদী পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ মিন্টু একই সময়ে পৃথক দুটি বিজয় শোভাযাত্রার আয়োজন করেন। দুই পক্ষের দুটি মিছিল মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের ধাওয়া ও পালটা ধাওয়ায় পোস্ট অফিস মোড় এলাকাসহ শহর জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে দুটি মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পোস্ট অফিস মোড়ে যুবলীগের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে পুলিশ দুই দফা বেধড়ক লাঠিচার্জ করে। এসব হামলা ও পালটা হামলা এবং পুলিশের লাঠিচার্জে দলীয় নেতাকর্মীসহ ২০ জন আহত হন।

প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে আহত

এদিকে, ঈশ্বরদীর চরমিরকামারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অতিথি না করায় শিক্ষার্থীদের সামনেই প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ করেছেন আহত প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামাল। এ সময় প্রধান অতিথি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান মিন্টুকে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে সাবেক এমপি মঞ্জুর রহমান বিশ্বাস বলেন, প্রধান শিক্ষককে কে বা কারা পিটিয়েছে তা তিনি জানেন না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধান শিক্ষক মোস্তফা কামালের পূর্বপুরুষেরা রাজাকার ছিল।

বকশীগঞ্জে ফুল দেওয়া হলো না বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে

বকশীগঞ্জ (জামালপুর) :বকশীগঞ্জ সরকারি কিয়ামত উল্লাহ কলেজের শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া ও পালটা ধাওয়া হয়েছে।  ছাত্রলীগের নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঐ ঘটনা ঘটে। ঘটনার জের ধরে কলেজের একটি কক্ষে কলেজশিক্ষক হাবিবুর রহমান, শাহ আলম, মিন্টু চন্দ্র দে, রবিউল ইসলাম, আশরাফ হোসাইনসহ ১৪ জন শিক্ষককে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। মহান বিজয় দিবসে বকশীগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধা ভবন ছিল খুবই নোংরা। মুক্তিযোদ্ধা ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ছিল আগাছায় ভরা। বিজয় দিবসে কেউ ফুল দেননি বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে। মুক্তিযোদ্ধা ভবনে জাতীয় ও সংগঠনের নিজস্ব পতাকাও উত্তোলন হয়েছে  বিলম্বে। বকশীগঞ্জ এনএম হাইস্কুল মাঠে চেয়ারে বসার সুযোগ না পেয়ে একজন মুক্তিযোদ্ধা মাটিতে বসে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান উপভোগ করেছেন।