দখল-দূষণে অস্তিত্বের সংকটে বাঁকখালী নদী

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৪

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার

অবৈধ দখল অব্যাহত থাকায় অস্তিত্বসংকটে পড়েছে কক্সবাজারের এক সময়ের খরস্রোতা বাঁকখালী নদী। দুই পাড় সংকুচিত হয়ে পর্যটন শহরের মিঠাপানির প্রাণ এ নদী ক্রমে ছোটো খালে পরিণত হচ্ছে। নদীর তীর ভরাট ও অবৈধ দখলে জড়িতদের শনাক্ত করে মামলা করা হলেও থেমে নেই দখল। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও অজানা কারণে থেমে আছে উচ্ছেদ কার্যক্রমও।

জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন তাদের ওয়েবসাইটে ১০৯ জন দখলদারের পরিচিতি দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কক্সবাজার পৌরসভাও। কিন্তু কক্সবাজার জেলা প্রশাসন ১৫৭ প্রভাবশালীসহ ৪২০ জন দখলদারকে চিহ্নিত করেছে। এরপরও দখলদারদের বিরুদ্ধে দৃশ্যত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

দেখা গেছে, কক্সবাজারের প্রাণ বাঁকখালী নদী গিলে খাচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। ভূমিদস্যুদের পরিকল্পিত দখলে দুই তীরে গড়ে উঠেছে চিংড়ি ঘের, লবণমাঠ, পোলট্রি খামার, চাল ও ময়দার মিল, ঘরবাড়ি-দোকানপাটসহ কয়েকশ স্থাপনা। পলিথিনসহ নানা বর্জ্যে ধ্বংস হচ্ছে প্যারাবন। তলদেশ ভরাট হওয়ায় নদীর তীরের কয়েক হাজার নলকূপের পানি লবণাক্ত হয়ে গেছে। নদীটি আগের সেই অবস্থান থেকে অন্তত ১ কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে।

দখল ও ময়লা ফেলার বিষয়ে জানতে কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান বলেন, ময়লা ফেলা জমিটি পৌরসভার ক্রয়কৃত খতিয়ান জমি। স্থায়ী একটি জাম্পিং স্টেশন নির্মাণে জমি অধিগ্রহণ বা ক্রয়ের চেষ্টা চলছে। এটি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত বাঁকখালী তীরে একযুগ আগে ক্রয় করা জমিটি ব্যবহার হচ্ছে।

পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা এনভায়রনমেন্ট পিপল এর প্রধান নির্বাহী রাশেদুল মজিদ বলেন, বাঁকখালীর তীর দখলদারদের উচ্ছেদে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু তহবিল বরাদ্দ না থাকার কথা বলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় না। প্রশাসনের নীরবতায় দখলকারীরা বেপরোয়া হচ্ছে। প্রশাসন চাইলে যে কোনো সময় আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা বলেন, বাঁকখালী নদীকে ঘিরে কক্সবাজারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনাদিকাল থেকেই। দখল আর দূষণে নাব্যতা হারিয়ে আজ জৌলুসহীন বাঁকখালী নদী।

কক্সবাজারে একটি সভায় জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেছিলেন, দেশের বিদ্যমান আইনে নদী ইজারা দেওয়ার ক্ষমতা কাউকে দেওয়া হয়নি। কেউ কোনো দলিলমূলে নদী দখল করলেও আইনত তা অবৈধ। এই দলিল বাতিল করার ক্ষমতা জেলা কালেক্টরকে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনায় বাঁকখালীর দখলদারদের ৪২০ জনের তালিকা করা হয়েছে। আর সীমানা নির্ধারণে সিএস জরিপের কথা বলেছেন হাইকোর্ট। কিন্তু জেলার নদীগুলোতে সিএস জরিপ হয়নি। বিষয়টি হাইকোর্টকে জানানো হয়েছে। আরএস বা বিএস জরিপের কোনো একটার ভিত্তিতে নদীর সীমানা নির্ধারণের নির্দেশনা পেতে হাইকোর্টকে অনুরোধ করা হয়েছে। নির্দেশনা পেলেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের জন্য জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক) চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ডের ৬ নম্বর কার্যাবলি হলো সমুদ্রসীমার মধ্যে কেউ যদি কোনো নির্মাণ কাজ করে সেটাকে অপসারণ বা উচ্ছেদ করা। বাঁকখালীর বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে সহযোগিতা করা হবে।