তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় যোদ্ধা ও যুদ্ধপরবর্তী সময়ে সহায়তাকারী রাশিয়ার নৌ সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাত্
বিশেষ প্রতিনিধি
ভারত-বাংলাদেশের বন্ধুত্ব এখন সর্বোচ্চ চূড়ায় আছে, তা সারা জীবন বজায় থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার সেনাসদরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় যোদ্ধা ও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সহায়তাকারী রাশিয়ার নৌ সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি আরো বলেন, যুদ্ধপরবর্তী সময়ে রাশিয়ার ভূমিকা বাংলাদেশ সব সময় স্মরণে রাখবে। বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ গড়তে রাশিয়া এবং ভারতের যে সকল বীরসেনা আত্মত্যাগ করেছেন, তারা আজও বাংলাদেশের অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেন সেনাপ্রধান।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া ভারতীয় যোদ্ধা ও যুদ্ধ পরবর্তী সময়ে সহায়তাকারী রাশিয়ার নৌ সদস্যরা গতকাল ভারপ্রাপ্ত নৌ বাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম মকবুল হোসেনের সঙ্গে নৌ সদর দপ্তরে সাগরিকা হলে এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সঙ্গে তেজগাঁওয়ে বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে সাক্ষাত্ করেন।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২৬ জন বীর যোদ্ধা এবং স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী কর্ণফুলী চ্যানেলে মাইন অপসারণে সহায়তাকারী রাশিয়ার পাঁচ জন প্রতিনিধি দলে ছিলেন। সাক্ষাত্কালে পারস্পরিক কুশল বিনিময়ের পর সেনাবাহিনী প্রধান বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও যুদ্ধ পরবর্তী তাদের অবদান অত্যন্ত শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। সেনাবাহিনী প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাতের আগে তারা ঢাকা সেনানিবাসস্থ শিখা অনির্বাণে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদত বরণকারী সশস্ত্র বাহিনীর বীর সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ পরবর্তী সহায়তা প্রদানকারী পাঁচ জনসহ ছয় সদস্যের রাশিয়ার বিশেষ প্রতিনিধিদল গত ১৪ ডিসেম্বর এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ২৬ জন বীর যোদ্ধাসহ ৫৯ সদস্যের ভারতীয় প্রতিনিধিদল ১৫ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকা আসেন। প্রতিনিধিদল দুটি গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া প্রতিনিধিদল দুটি গতকাল নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন।
সফরকালে ভারতীয় প্রতিনিধি দলটি সেনাবাহিনীর ৯৮ কম্পোজিট ব্রিগেড, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে টাঙ্গাইলের প্যারাড্রপিং সাইট পরিদর্শনসহ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করবেন। সফর শেষে প্রতিনিধিদল দুটি আগামী ১৯ ডিসেম্বর নিজ নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।
এদিকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারতীয় এবং রাশিয়ান সশস্ত্র বাহিনীর ৩১ জন বীর যোদ্ধা ভারপ্রাপ্ত নৌ বাহিনী প্রধান রিয়ার এডমিরাল এম মকবুল হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করেন। বনানীর নৌ সদর দপ্তরে সাগরিকা হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দেন লে. জেনারেল রাজেন্দ্র সিং কাদিয়ান (অব.) এবং রাশিয়ান দলের নেতৃত্ব দেন ভাসিলি মিহাইলোভিচ সিলিয়েভ। এছাড়া উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারত ও রাশিয়ার ডিফেন্স এ্যাটাশে, সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা এবং নৌ সদরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী ভারত ও রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর ৩১ জন বীর যোদ্ধার প্রতিনিধিদলটি বিমান বাহিনীর ফ্যালকন হলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। প্রতিনিধিদলটির নেতৃত্বে ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) রাজেন্দ্র সিং কাদিয়ান।
