গঙ্গাচড়ার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ বধ্যভূমি আজো অরক্ষিত রয়েছে। নেই কোনো প্রাচীর। তিস্তা নদী ভাঙতে ভাঙতে বধ্যভূমির কাছাকাছি এসেছে। আর ৫০ ফুট ভাঙলে তিস্তায় বিলীন হবে। স্বাধীনতার এত বছর পরও অরক্ষিত রয়েছে স্থানটি। ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার শংকরদহ গ্রামে ঘটেছিল নৃশংস হত্যাকাণ্ড। স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকার-আলবদরদের সহযোগিতায় পাকহানাদার বাহিনীর বুলেটে নিহত হন ১৭ জন নিরীহ গ্রামবাসী। এদের মধ্যে মসজিদে নামাজরত অবস্থায় পাকসেনারা ব্রাশফায়ার করে মেরেছে ৬ জনকে, চলতি পথে গুলি করে মেরেছে ১০ জনকে এবং বেয়োনেট চার্জ করে মেরেছে ১ জনকে। ১২ ডিসেম্বর রাতে মুক্তিযোদ্ধারা খবর পান পাকসেনারা গঙ্গাচড়া আক্রমণ করবে। এস এম মনিরুজ্জামান বাবলুর নেতৃত্বে ৫০ জন মুক্তিযোদ্ধা নদী পার হয়ে মহিপুরে পৌঁছেন ১৩ ডিসেম্বর সকালে। পাকসেনারা গঙ্গাচড়া এবং লক্ষ্মীটারীর সীমানা গান্নারপাড়ে পৌঁছলে শুরু হয় সম্মুখযুদ্ধ। এ যুদ্ধে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে আবদুল আজিজ, আবদুল সালাম, সিরাজুল ইসলাম, মজিবর রহমান, সামসুল আলম, রওশোনুল হক, ছাদেকুল ইসলাম, মহুবর রহমান, আবদুল হামিদ প্রমুখ অংশ নেন। টানা কয়েক ঘণ্টা সম্মুখযুদ্ধ শেষে পাকসেনারা শংকরদহ মসজিদে চালায় হত্যাযজ্ঞ। এরপর তারা ব্রাশফায়ার করতে করতে ঐ এলাকা ত্যাগ করে। এ সময় তাদের হত্যাযজ্ঞের শিকার হন মুন্সি মঞ্জুম আলী, রহিম উদ্দিন, আকবর আলী, সহিদার রহমান, বদিউল ইসলাম ও আলী মাস্টার। আর এদিনই শত্রুমুক্ত হয় গঙ্গাচড়া। তিস্তার ভাঙন থেকে বধ্যভূমিটি রক্ষার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনেকবার আবেদন-নিবেদন করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর কতোদিন অরক্ষিত থাকবে এই বধ্যভূমি?
কমল কান্ত রায়, গঙ্গাচড়া, রংপুর
