গত ৯ ডিসেম্বর ছিল নাগরপুর (টাঙ্গাইল) হানাদারমুক্ত দিবস। মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান বীরবিক্রম মুক্তিযুদ্ধের লোমহর্ষক কাহিনি বর্ণনা করছিলেন। আর আমার কেবলই মনে পড়ছিল পাকিস্তানি হানাদারদের তৈরি করা বিপুলসংখ্যক বাংকারের (পরিখা) কথা। থানার আশপাশের বিশাল এলাকাজুড়ে বাংকারগুলো রাজাকারদের দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। এক বাংকার থেকে আরেকটায় যাওয়ার রাস্তাও তৈরি করা হয়েছিল মাটি কেটে পরিকল্পিতভাবে। আমরা তখন আট-দশ বছরের বালক। বড়োদের সঙ্গে প্রায় ১০ কিলোমিটার পায়ে হেঁটে গিয়েছিলাম ওগুলো দেখতে। ঘুরে ঘুরে দেখেছিলাম খড়কুটো বিছানো বাংকারগুলো। আজ ওগুলোর চিহ্ন নেই। ঐদিন মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে আসা এক প্রবীণ মুক্তিযোদ্ধা বললেন, বাংকারগুলো পরবর্তী সময়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে এরকম বাংকার তৈরি করে হানাদাররা যুদ্ধ করেছে। কিন্তু কোথাও এগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে কি না, আমার জানা নেই। তবে টাঙ্গাইলের নাগরপুরের বাংকারগুলো সংরক্ষণ করা হলে মানুষ যুগ যুগ ধরে অভিশপ্ত সেই স্মৃতিচিহ্ন দর্শন করত।
ডি এম সিরাজুল ইসলাম সিদ্দিকী
গ্রন্থাগারিক, বিসিআরজি ডিগ্রি কলেজ, পাকুটিয়া, নাগরপুর, টাঙ্গাইল
০
