দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সফল হবে না :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৫

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘পাকিপ্রেমী যারা, তারা বিদেশেই থাক আর জেলখানায়ই থাক, তাদের চক্রান্ত কিন্তু থাকবেই। মুষ্টিমেয় কিছু দালাল থাকতে পারে, কিন্তু বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারেনি; দাবায়ে রাখতে পারবেও না। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী চক্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র করে সফল হতে পারবে না। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ‘পাকিস্তন থেকে আমরা আলাদা হয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছি। অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে, নীতি-আদর্শিকভাবে, যেভাবেই হোক পাকিস্তানের     ওপরে আমরা থাকব।’ ‘আজকে সত্যিই তা আমরা আছি’ উল্লেখ করে এটা ধরে রাখার আহ্বান জানান তিনি।

জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এত বড়ো একটা ঘটনা (বঙ্গবন্ধু হত্যা), বাংলাদেশের কোনো লোক জানতে পারল না? কেউ কোনো পদক্ষেপ নিল না? লাশ পড়ে থাকল ৩২ নম্বরে! সেই কথা আমি এখনো ভাবি। এত বড়ো সংগঠন, দলের এত নেতা কোথায় ছিল তখন? মাঝে মাঝে আমার জানতে ইচ্ছে করে, কেউ সাহসে ভর করে এগিয়ে আসতে পারল না? বাংলার সাধারণ মানুষ তো বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ছিল।’

এ সময় দলের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে সততার সঙ্গে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী পেলাম বা কী পেলাম না, সেটি বড়ো কথা নয়। দেশের মানুষকে কী দিতে পারলাম সেটাই বড়ো কথা। অর্থ নিয়ে কেউ কবরে যেতে পারবে না। কিন্তু অনেকের অর্থপ্রাপ্তি একটি বড়ো নেশা। এই দুরারোগ্য ব্যাধি (অর্থলিপ্সা) থেকে মুক্ত হয়ে জনগণের জন্য কাজ করলে এ দেশ আরো উন্নত হবে এবং এগিয়ে যাবে।’ 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বাধীনতার পর যারা (যুক্তরাষ্ট্র) বলেছিল, বাংলাদেশ স্বাধীন হলে কী হবে, তলাবিহীন ঝুড়ি হয়ে থাকবে। সেই দেশের বর্তমানে দারিদ্র্যের হার ১৮ শতাংশ। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, আমাদের দারিদ্র্যের হার সেই দেশ থেকে ১ শতাংশ হলেও কমাব। শত ষড়যন্ত্র হলেও বাংলাদেশ অর্থনৈতিকসহ সব দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। দারিদ্র্যের হার আমরা ২০ শতাংশে কমিয়ে আনতে পেরেছি, আরো কমাব।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১টি বছর বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তারই কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে স্বল্পোন্নত দেশে পরিণত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সব যুদ্ধাপরাধীকে মুক্তি দিয়ে রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা করা, যুদ্ধাপরাধীদের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী বানিয়ে বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুরো ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলে। তিনি বলেন, ইতিহাস সত্যকে অনুসন্ধান করে। সত্যই টিকে থাকে, মিথ্যা কখনো টিকে থাকে না—এটা আজ প্রমাণিত হয়েছে।

মহান বিজয় দিবসে দলের নেতাকর্মী, দেশি-প্রবাসী সব সমর্থকসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৬ ডিসেম্বর আমরা বিজয় অর্জন করি, পাকিস্তানি হানাদাররা আত্মসমর্পণ করে। ১৬ ডিসেম্বর দেশ বিজয় অর্জন করলেও আমরা মুক্তি পাই পরদিন ১৭ ডিসেম্বর।’ বন্দিদশায় থাকার ঐ সময়ের নানা ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এ মান্নান কচি ও মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের পরিচালনায় আলোচনা সভায় কবিতা আবৃত্তি করেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য অধ্যাপক মেরিনা জাহান কবিতা।

সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিজয়ের ৪৮তম বার্ষিকীতে আমরা গর্ব করে বলতে পারি, আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সর্বক্ষণ জেগে আছেন বলে বাংলাদেশ নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।’ দলীয় নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আজকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানে শুদ্ধ হয়ে নবতর পথযাত্রা সূচনা করব, এটাই হোক আমাদের শপথ।’