“জয় বাংলা’, ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলা’, ‘ঐক্যবদ্ধ ভারত” এমন স্লোগানে গতকাল মঙ্গলবার ভারতে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) এবং নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে কলকাতায় প্রতিবাদের ঝড় তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। গতকাল দ্বিতীয় দিনে তিনি পথে নেমে বললেন, ‘আমরা সবাই ভারতের নাগরিক। সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের মধ্যে আমরা থাকব। সব ধর্ম আমার, আপনার। দেশের ওপর জুলুম করতে দেব না। পশ্চিমবাংলায় এনআরসি করতে দিচ্ছি না। ক্যাব করতে দিচ্ছি না। পশ্চিমবাংলা থেকে কাউকে তাড়াতে দেব না। ভারত ভাগ হতে দিচ্ছি না। দেব না। সংখ্যার জোরে আইন পাশ করানো যায়। সংবিধান মেনেছে কি মানেনি সেটা দেখতে হবে। মানুষের সমর্থন না পেলে আইন কার্যকর হয় না। এই আইন বেআইনি। এভাবে ধর্মের ভিত্তিতে কোনো আইন করে দেশের মানুষকে তাড়ানো যায় না।’
মমতা বলেন, বিজেপি ভাবছে দেশ দখল করে নিয়েছি। সংবিধান মেনে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাশ করানো হয়নি। এরপরই তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নাম না করে আক্রমণ করে বলেন, একজন বলছেন, পোশাক পরে চেনা যায় কারা আন্দোলন করছে। এটা কোনো কথা? মাথায় টুপি পরলেই সবটা বোঝা যায়? সাতবার এমপি, দুই বার এমএলএ হয়ে আমি আমার পরিচয় দেব? মা-বাবার জন্ম বলব? শুধু ডিভাইড অ্যান্ড রুল পলিসি। কখনো মন্দির গড়ছে, মসজিদ ভাঙছে। কখনো আবার বলছে অ্যাংলো-ইন্ডিয়ানদের বাদ দেবে।
মমতার দাবি, অবিলম্বে ক্যাব এবং এনআরসি বাতিল করতে হবে। যতক্ষণ না তা হবে, প্রতিবাদের পথ থেকে সরবেন না তিনি। রাস্তাই তাকে পথ দেখাবে। এদিনও মমতা বলেন, বিজেপি বাইরে থেকে টাকা দিয়ে রাজ্যে অশান্তি ছড়াতে চাইছে। মুসলিমদের বদনাম করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে থেকে কিছু সংগঠন তাতে মদত দিচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবারও কলকাতা এবং হাওড়ার পথে এনআরসি, ক্যাব বিরোধী প্রতিবাদ মিছিল নিয়ে পথে নামবেন মমতা। এরপরও আন্দোলন চলবে ধারাবাহিকভাবে। বড়ো মিছিল শেষে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ব্লকে ব্লকে কর্মসূচি হবে। আগামী ২০ ডিসেম্বর তৃণমূল ভবনে দলের সাংসদ-বিধায়কদের ডেকেছেন মমতা। সেখানেই পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
