একনেক সভায় ৯ প্রকল্প অনুমোদন

দেশে দরিদ্রের হার নেমে এসেছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে

আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৮

দেশের দারিদ্র্যহার আরো কমে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। সেই সঙ্গে হতদরিদ্রের হার নেমে এসেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভা শেষে এ তথ্য সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী দেশের দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমে হয়েছে ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই হার ছিল ২১ দশমিক ৮ শতাংশ। সেময় অতিদরিদ্রের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। এটি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। শেরেবাংলা নগরস্থ এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রী জানান, দারিদ্র্য হার নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তৈরি করা সর্বশেষ এ প্রতিবেদন একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়। দারিদ্র্যহার কমার এ প্রবণতায় প্রধানমন্ত্রী উচ্ছ্বসিত, তবে আরো বেশি হারে দারিদ্র্য কমনোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। ২০১৬ সালের খানা আয় ব্যয় জরিপের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্যসীমার সর্বশেষ এ হার প্রাক্কলন করা হয়। গতকাল একনেক সভায় ৩ হাজার ২২৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৯টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি সংশোধিত। সবগুলো প্রকল্প সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়িত হবে।

সভায় মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের জন্য নোয়াখালীর ভাসানচরে অবকাঠামো তৈরির লক্ষ্যে আশ্রয়ণ-৩ প্রকল্প (সংশোধিত) অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের মূল ব্যয় ছিল ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা। সেখান থেকে ৭৮২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় প্রকল্পটির সংশোধন অনুমোদন দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের আওতায় নোয়াখালী জেলার হাতিয়ার চরঈশ্বর ইউনিয়নের ভাসানচরে মিয়ানমারের এক লাখ নাগরিকের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে অবকাঠামো উন্নয়ন ও বনায়ন করা হবে। এছাড়া দ্বীপটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও নির্মাণ করা হবে।

সভায় এসএসসি ও এইচএসসি পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আইটিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি আরবি, ফারসি, জাপানি, স্প্যানিশ ভাষা শেখার ওপর জোর দেওয়ার জন্য আইসিটি বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় ২৩৩ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেলসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনার নির্মাণ ও আধুনিকায়ন শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদের সব ভবনে প্রি-পেইড মিটার লাগানোর কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি অফিস-আদালত ও বাসভবনসহ সর্বত্র প্রি-পেইড মিটার লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। সভায় বিভিন্ন অনুশাসনের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সেতু বানানোর ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাগিদ দিয়েছেন। কোনো নদীর ওপর রেল ও সড়কসেতু নির্মাণের সময় আলাদা না করে একসঙ্গে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো হলো—৬৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে খাদ্যশস্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রিমিক্স কার্নেল মেশিন ও ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প, ২৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে আর্মড ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজির (এএফআইপি) সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প, ৬১৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে দীঘলিয়া (রেলিগেট)-আড়ুয়া-গাজীরহাট-তেরখাদা সড়কে ভৈরব নদীর ওপর ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্প, ৯৮৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর-ধুনট-শেরপুর এবং সিরাজগঞ্জ (বাগবাটি)-ধুনট (সোনামুখী) মহাসড়কের যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প, ১০৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং ৯২ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মান উন্নয়ন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প।