রংপুরে নির্মিত উত্তরবঙ্গের প্রথম সরকারি একশ শয্যার পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালুর অপেক্ষায়। এরই মধ্যে হাসপাতাল ভবন নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। রংপুরের সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায় বলেন, ভবন বুঝে পাওয়ার পরেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরবর্তী কার্যক্রম চালুর জন্য অবগত করা হবে। শিশু হাসপাতালে সুবিধা সম্পর্কে তিনি বলেন, মূল হাসপাতাল ভবনের প্রথম তলায় থাকবে ইমার্জেন্সি, আউটডোর, চিকিত্সকদের চেম্বার এবং ল্যাব। দ্বিতীয় তলায় অপারেশন থিয়েটার, তৃতীয় তলায় ওয়ার্ড এবং কেবিন ।
রংপুরের শিশু ও নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ এবং মা ও শিশু হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. অধ্যাপক এম এ ওয়াহেদ বলেন, রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে একটিমাত্র শিশু বিভাগ দিয়ে এ অঞ্চলের চিকিত্সাপ্রত্যাশী শিশুদের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতালটির কার্যক্রম চালু হলে শিশুদের জটিল সার্জারি ও সাধারণ রোগের চিকিত্সা স্বল্পমূল্যে প্রদান করা সম্ভব হবে। ফলে শিশুদের চিকিত্সা বাবদ অভিভাবকদের আর্থিক অপচয় যেমন দূর হবে, তেমনি ভোগান্তি অনেক কমে আসবে।
জানা গেছে, শিশু হাসপাতালের ভবন নির্মাণের জন্য দুই বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আড়াই মাস আগে কাজ শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। চলতি মাসে শিশু হাসপাতাল ভবনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জেলা সিভিল সার্জনকে হস্তান্তরের দিন ঠিক করা হয়েছে।
রংপুর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান জানান, রংপুর মহানগরীর সদর হাসপাতালের প্রায় ২ একর জমির ওপর শিশু হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে। ছয়তলা ভিত্তির মূল হাসপাতাল ভবনটি প্রথম পর্যায়ে তিন তলাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। আতিকুর রহমান আরো বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিশু হাসপাতালের জন্য ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করেছে। আশা করি, চলতি মাসেই জেলা সিভিল সার্জনকে নবনির্মিত ভবন হস্তান্তর করতে পারব।
