‘কোনো বাংলাদেশি নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে রয়েছেন, ভারত সরকার তার যথার্থ প্রমাণ দিতে পারলে তবেই তাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। ভারত সরকারের তরফে কেউ এখনো বলেননি, বাংলাদেশি কোনো নাগরিক সেখানে অবৈধভাবে আছেন কি না। কোনো তালিকাও তারা দেয়নি।’ মঙ্গলবার কলকাতায় বাংলাদেশ উপদূতাবাস আয়োজিত ৩ দিনের ‘বাংলাদেশের বিজয় উত্সব’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের জয় বাংলাদেশ ভারতের যৌথ বিজয়। এভাবে না হলে হয় তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সময় লেগে যেত। মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের ১ কোটি মানুষকে ভারত আশ্রয় দিয়েছিল। ৯ মাস পরে তারা সবাই আবার বাংলাদেশে ফিরে গিয়েছিলেন। বিভিন্ন সময়ে সম্পর্ক কিছুটা উঁচুনিচু হয়েছে। তবে শেখ হাসিনা সরকার বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়নি। এক-আধটা ঘটনায় ভারতের সঙ্গে সেই সম্পর্ক বদলাবে না। ভারতীয় যেসব সেনা মুক্তিযুদ্ধে রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের অবদানও বাংলাদেশ ভুলবে না।
রিজভী বলেন, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অতীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, এ নিয়ে বাংলাদেশের চিন্তার কিছু নেই। বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়বে না। এরপরই তিনি ফের বলেন, অবৈধভাবে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক ভারতে থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে সাধারণ যা নিয়মনীতি আছে সেরকমভাবেই ফেরানো হবে। বাংলাদেশেও ভারতের কেউ অবৈধভাবে থাকলে তাকেও একইরকমভাবে ভারতকে ফিরিয়ে নিতে হবে। সারা বিশ্বে এভাবেই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরানো হয়।
এদিন উত্সবের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গওহর রিজভী, মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) আব্দুর রশিদ, রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরী, কলকাতায় বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত তৌফিক হাসান। বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সালেককে বিশেষ সম্মাননা জ্ঞাপন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন অদিতি মহসিন, সৈয়দ আব্দুল হাদি প্রমুখ। উত্সবে প্রতিদিনই আলোচনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
