শ্রীপুর উপজেলা সাবরেজিস্ট্রি অফিস
আশরাফ হোসেন, শ্রীপুর (মাগুরা) সংবাদদাতা
বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার সাবরেজিস্ট্রি অফিস। অযত্ন, অবহেলা, সংস্কার না করা এবং নতুন ভবনের অভাবে অফিসটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা ও আদালতে মামলা থাকায় ভবন নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। জানা গেছে, ১৯২৫ সালে উপজেলা সদরে সাবরেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম শুরু করা হয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, অফিস ঘরটি টিনশেড ও স্বল্প প্রশস্ত, নিচু হওয়ায় গরমের দিন কাজকর্ম করা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। বর্ষাকালে একটু বৃষ্টি হলেই পুরোনো টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি প্রবেশ করে মেঝেতে গিয়ে গড়িয়ে পড়ে। পানি পড়ায় অফিসিয়াল গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, দলিলপত্র ও ভলিয়ম বই নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণেই দীর্ঘদিন ধরে এ অফিসের রেকর্ড রুমে কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জমা রাখা হয় না। অফিস ঘরের দেওয়ালের পলেস্তারা, চুন, ইট, বালু খসে পড়ছে। দীর্ঘদিনের জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ এ অফিস ঘরে বসেই সাবরেজিস্ট্রি অফিসের সকল প্রকার সরকারি কাজ-কর্ম করে থাকেন। অফিস কক্ষে কাজের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। বৃষ্টির পানি ও সূর্যের প্রখরতা রোধ করতে সাবরেজিস্ট্রার ভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করেছেন। তিনি অতিসম্প্রতি নিজ উদ্যোগে টিনশেড অফিস কক্ষের ছাউনিতে প্লাস্টিকের তৈরি ওয়াটার প্রুফ ট্রিপল প্রতিস্থাপন করেছেন। এ ছাড়া টয়লেট এবং বাথরুমের কোনো সুব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
এদিকে সব সমস্যা বিবেচনা করে ২০০৮ সালে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে শ্রীপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসের নামে নতুন ভবন নির্মাণের বরাদ্দ করা হয়। ঠিকাদারও ভবন নির্মাণের জন্য নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করেছিলেন। কিন্তু ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা ও আদালতে মামলা থাকায় ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়। মামলা জটিলতার কারণে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে ভবন নির্মাণকাজ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে সাবরেজিস্ট্রার স্বপন কুমার দে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ ছাড়া কোনো মন্তব্য করা ঠিক নয়। তারপরও কিছু বিষয় বলতেই হয়। এ অফিসে অনেক অভাব ও সমস্যা আছে, এটা সঠিক। সকল সমস্যার মোকাবিলা করেই অতীতের কর্মকর্তাদের মতো আমাকেও এখানে সরকারি গুরুদায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তবে নতুন ভবন নির্মিত হলে সকল সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
