নাবিল হাসান
বেশ কিছুদিন আগে আবিষ্কার হওয়া ‘এয়ারকন্ডিশনার’ আজ শিল্পায়িত দেশগুলোকে সন্তুষ্ট করে চলে এসেছে গরিবের দোরগোড়ায়। এই যদি বাংলাদেশের কথাই বলি, তাহলে দেখা যায় যে কোনো একটা দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কোচিং সেন্টারে ভর্তি কিংবা জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির বিজ্ঞাপনে বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা থাকে ‘এসির সুব্যবস্থা রয়েছে’। কারণ কী? শুধু নিজের প্রতিষ্ঠানকে আরো বেশি প্রতিষ্ঠিত করার জন্যই এই পাঁয়তারা, অথচ কোনো দরকারই ছিল না এসি ব্যবহার করার।
ভারতের দিল্লির বিএলকে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডাক্তার আর কে সিংহল জানান, নিয়মিত এসি ঘরে থাকলে বেশ কিছু কুপ্রভাবে আক্রান্ত হতে পারে আপনার শরীর। তিনি ১০টি শারীরিক সমস্যার কথা বলেছেন, যা মূলত নিয়মিত এসি ঘরে থাকার কারণে দেখা দেয়। কোন কোন সমস্যা সেগুলো? আসুন, জেনে নেওয়া যাক—এসি ঘরের তাপমাত্রা প্রাকৃতিক তাপমাত্রার চেয়ে কম হয়। এমন পরিবেশে মানবশরীরকে তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা ধরে রাখার জন্য অধিক পরিশ্রম করতে হয়। এতে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
সারাক্ষণ এসিতে থাকলে শরীরে রক্ত সঞ্চালনে বিঘ্ন ঘটে। এ কারণে বিভিন্ন অংশের মাংসপেশিতে ক্র্যাম্প সৃষ্টি হয় এবং মাথাব্যথা দেখা দিতে পারে।
এয়ারকন্ডিশন ছাড়াও গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের বাকি কারণগুলো যদি বলতে থাকি তো শিল্পকারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্য, গাড়ির কালো ধোঁয়া, কীটনাশক, ইলেকট্রনিক বর্জ্য, গাছ কাটা ইত্যাদি ইত্যাদি। আর এই সব ক্রিয়ার পেছনেই মানুষের বড়ো বড়ো হাত দুখানা রয়েছে। কিন্তু খেয়াল করে কি দেখেছেন, সমস্যাগুলোর পেছনে মোটামুটি একটা সমাধান কিন্তু আলো-আঁধারির মতো দেখা যাচ্ছে। একটু পেছন থেকে ভেবে দেখেন তো, এয়ারকন্ডিশনার কেন এলো? কারণ প্রকৃতি সহনীয় গরমের থেকেও বেশি মাত্রার। শিল্পকারখানার ধোঁয়াকে কেন অক্সিজেন টেক্কা দিতে পারছে না? কারণ পরিমিত গাছ নেই। সব প্রশ্নের পেছনে শুধু গাছ আর গাছ। যে ব্যক্তি একটা এয়ারকন্ডিশনার কিনে আনল, সে কি জানে না এই এসির ক্ষতিকর দিক? অবশ্যই জানে।
দরকার বৃক্ষরোপণ। কারা করবে এই এত এত বৃক্ষরোপণ? অবশ্যই কাঁটা দিয়ে কাঁটা তুলব। এমন একটা আইন চাই যে আইনে বলা থাকবে, যে ব্যক্তি একটি এসি ক্রয় করবে তার নিজেকে পাঁচ পাঁচটি গাছ লাগাতে হবে এবং পরিচর্যা করতে হবে। আর এ ব্যাপারে থাকবে কঠোর নীতিমালা ও আইন। ভবিষ্যতে সেই গাছের ফল ভোগও করতে পারবেন। হয়ে যান পাঁচটা গাছের মালিক। সাড়া পৃথিবী ছেয়ে যাবে গাছে।
গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, ১৫০০ শতকের সময় থেকেই মূলত পৃথিবীর অস্তিত্ব ধীরে ধীরে বিপন্ন হতে শুরু করে। এখন সেই অবস্থা আরো গতিশীল হয়েছে। তবে বিভিন্ন দেশের নীতিনির্ধারকেরা সঠিক নীতি প্রণয়ন করলে পৃথিবীর ধ্বংস রোধ করা সম্ভব। ২০৬০ সাল নাগাদ পৃথিবীর জনসংখ্যা ১ হাজার কোটি ছাড়িয়ে গেলেও সবার পেট ভরানোর মতো খাবার পৃথিবীতে উত্পাদন করা সম্ভব হবে। তবে প্রয়োজন সঠিক পথে এগোনো। তাহলেই লক্ষ্যপূরণ সম্ভব, দাবি বিজ্ঞানীদের। বিজ্ঞানীদের দাওয়াই, এই অবস্থা থেকে বাঁচতে গেলে, জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে গেলে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে সতর্কতা দেখাতে হবে, যার ফলে বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানো যায়।
পৃথিবী ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলেছে। মানুষের কারণে পৃথিবীতে বসবাস করা সমস্ত ধরনের প্রাণের অস্তিত্ব বিপন্ন হওয়ার মুখে। বিখ্যাত বিজ্ঞান পত্রিকা নেচারে এমনই ভয়াবহ তথ্য পেশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। স্তন্যপায়ী প্রাণী, খেচর, উভচর প্রাণ ধীরে ধীরে অবলুপ্তির দিকে এগিয়ে চলেছে। এর আগে গ্রহাণুর হামলায় ডাইনোসরের বিলুপ্তি হয়েছিল। তেমনি এবার হয়তো অন্য কোনোভাবে পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব শেষ হবে। সতর্ক করেছেন বিজ্ঞানীরা। চাইলেই সতর্কতা অবলম্বন করে পৃথিবীটাকে পৃথিবী করা যায়। চলুন সবাই মিলে গাছ লাগাই। একটি এয়ারকন্ডিশনার আর পাঁচটি গাছ কিনে আনি।
n লেখক :শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
