প্লাস্টিক খাতে সর্বনিম্ন মজুরি ৮ হাজার টাকা

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৫১

মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন হয় না বেশিরভাগ কারখানায়

g রিয়াদ হোসেন

দেশের প্লাস্টিক খাতের শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরির খসড়া প্রকাশ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। এ খাতের শ্রমিকদের চারটি গ্রেডের মধ্যে চতুর্থ গ্রেডে সর্বনিম্ন মোট মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এর আগে সর্বশেষ ২০১১ সালে এ খাতের শ্রমিকদের জন্য মজুরি বোর্ড সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করেছিল ৫ হাজার টাকা। আট বছর শেষে সর্বনিম্ন মজুরি বেড়েছে ৩ হাজার টাকা বা ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রেড-১ এ সর্বমোট মজুরি হচ্ছে ১২ হাজার ৯২০ টাকা। গ্রেড ৩ ও গ্রেড ২ এ সর্বমোট মজরি হচ্ছে যথাক্রমে ১০ হাজার ১০০ টাকা ও ১১ হাজার ৯০০ টাকা। এছাড়া ছয় মাসের শিক্ষানবিশকালের জন্য মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৫০০ টাকা। নিম্নতম মজুরি বোর্ড প্রকাশিত গেজেড অনুযায়ী, নতুন মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের খাদ্য ভাতা যুক্ত করা হয়েছে। চলতি মাস থেকে নতুন এ মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা।

নতুন মজুরি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন মজুরি বোর্ডের শ্রমিকপক্ষের স্থায়ী সদস্য ও জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি ফজলুল হক মন্টু। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, গার্মেন্টসের মতো এত বড়ো খাতে সর্বনিম্ন মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। সেখানে প্লাস্টিক খাতের জন্য একই মজুরি নির্ধারণ করতে পারা আমাদের জন্য একটা  বড়ো অর্জন।

অন্যদিকে নতুন এ মজুরি বাস্তবায়ন করা কারখানা মালিকদের জন্য কঠিন হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিপিজিএমইএ) সভাপতি জসিম উদ্দিন। ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আগের মজুরি কাঠামোই অনেক কারখানা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। নতুন এ মজুরিও হয়তো অল্প কিছু কারখানা বাস্তবায়ন করতে পারবে। তিনি বলেন, সব সময় মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গার্মেন্টসকে মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়; কিন্তু এই খাত তো ছোটো। তবুও আমাদের চেষ্টা থাকবে বাস্তবায়নের।

বিপিজিএমইএ সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটির সদস্য কারখানা ২ হাজার ২০০। এর বাইরে আরো অনেক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে আগের মজুরি কাঠামো বাস্তবায়ন করেছে মাত্র ১০০ থেকে ১৫০ কারখানা। মজুরি বোর্ড প্রকাশিত গেজেড অনুযায়ী, গ্রেড-৪ ক্যাটাগরির শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছেন সহকারী ফিটার, প্লাম্বার, পেইন্টার, ম্যাসন, সহকারী প্যাকার, সাধারণ শ্রমিক, হেলপার ও মোল্ড পলিশার। এই গ্রেডে মাসিক মূল মজুরি ৫ হাজার টাকা ছাড়াও বাড়ি ভাড়া ভাতা ২ হাজার টাকা, চিকিত্সা ভাতা ৫০০ টাকা, যাতায়াত ভাতা ৩০০ টাকা ও খাদ্য ভাতা ২০০ টাকা। সব মিলিয়ে সর্বনিম্ন মোট মজুরি ৮ হাজার টাকা। গ্রেড-৩ এ অন্তর্ভুক্ত শ্রমিকরা হলো—ফিটার, প্যাকার, সহকারী অপারেটর, সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান, মোল্ড-এর সহকারী টেকনিশিয়ান, সহকারী ওয়েল্ডার, সহকারী কোয়ালিটি ইনসপেক্টর, সহকারী মেকানিক, জুনিয়র মেশিনম্যান, মেশিন সহকারী, সহকারী অ্যাসেম্বলার ও কাটারম্যান। গ্রেড-২ এ শ্রমিকদের তালিকায় রয়েছে সিনিয়র অপারেটর, মেশিন অপারেটর বা মেশিনম্যান, হ্যান্ড মেশিন অপারেটর, ইলেকট্রিশিয়ান টেকনিশিয়ান, কোয়ালিটি ইনসপেক্টর, মেকানিক, অ্যাসেম্বলার, স্যাম্পলম্যান ও অপারেটর (বয়লার, জেনারেটর, চিলার, কম্প্রেশার, পাম্প)। এছাড়া গ্রেড-১ এ রয়েছেন ফোরম্যান, সিনিয়র অপারেটর, মেকানিক্যাল সুপারভাইজার, সিনিয়র কোয়ালিটি ইনসপেক্টর।

এছাড়া কর্মচারীদের  জন্য গ্রেড-৩ এ বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে সর্বনিম্ন ৮ হাজার টাকা। এই ক্যাটাগারিতে রয়েছে পিয়ন, কুক, দারোয়ান, সুইপার, ক্লিনার, ঝাড়ুদার, গার্ডেনার, ক্যান্টিন বয়, আয়া, বেবি সিটার, দপ্তরি, সহকারী প্রোডাকশন রিপোর্টার, ডিস্ট্রিবিউশন হেলপার, ড্রাইভার সহকারী ও সহকারী ফায়ারম্যান।