আইনটি সংবিধানের লঙ্ঘন কি না, জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। পরবর্তী শুনানি ২২ জানুয়ারি
বিবিসি, রয়টার্স ও আল জাজিরা
ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের ওপর স্থগিতাদেশের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। তবে এই আইন সংবিধানের লঙ্ঘন কি না, সে ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জবাব চেয়ে ২২ জানুয়ারি পরবর্তী শুনানির তারিখ দিয়েছে আদালত।
নাগরিকত্ব আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছিল ৫৯টি পিটিশন। বুধবার প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চে এগুলোর শুনানি হয়। পিটিশন দাখিলকারীদের মধ্যে রয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ, ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লীগ এবং আসামে শাসক বিজেপির শরিক দল আসাম গণপরিষদ। পিটিশনগুলোতে বলা হয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী নাগরিকত্বে অনুমোদন পাওয়ার ভিত্তি কখনই ধর্ম হতে পারে না। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন সংবিধানের মূল ভিত্তির বিরোধী। কারণ, এই আইনে বেআইনি শরণার্থীদেরও ধর্মের ভিত্তিতে নাগরিক হিসেবে মেনে নেওয়া হচ্ছে। এতে সংবিধানের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে ।
আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান আদালতে বলেন, আইন এখনো বাস্তব রূপ পায়নি। তাই আপাতত এই আইন স্থগিত করা হোক। তার বক্তব্যের বিরোধিতা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বেণু গোপাল বলেন, আইনে এভাবে স্থগিতাদেশ দেওয়া যায় না। সংক্ষিপ্ত শুনানিতে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব করে। তবে আইনটির ওপর স্থগিতাদেশের আবেদন মানতে রাজি হয়নি আদালত। আগামী ২২ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
চলতি মাসে ভারতে পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনে (সিএএ) ২০১৫ সালের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কট্টর হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন সরকারের দাবি, সংশোধিত এ আইন পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে নির্যাতিত হওয়া সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, সিএএর মাধ্যমে বিজেপি আদতে তাদের ‘হিন্দু জাতীয়তাবাদী’ এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করতে চায়, যাতে ভারতের সংখ্যালঘু ২০ কোটি মুসলমানকে আরো কোণঠাসা করা যাবে। নাগরিকত্ব প্রমাণে নিজের বা পূর্বপুরুষদের নথি দেখাতে হবে, যা অনেক মুসলমানকে ‘রাষ্ট্রহীন’ করে তুলতে পারে বলেও আতঙ্ক অনেকের। বিরোধী দলগুলো বলছে, সংশোধিত এ আইন ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের মূলনীতির সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।
সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোর বাসিন্দাদের মনে রয়েছে অন্য ভয়। তাদের ধারণা, আইনটি কার্যকর হলে প্রতিবেশী বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে হিন্দুদের ভারতে ঢোকার পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। এদিকে আইনটির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে পুলিশের বর্বরতার মধ্যেও ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
