হঠাত্ শীতের দাপট

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪২

রাজধানীসহ সারাদেশে গতকাল অকস্মাত্ শীতের দাপট শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারও রাজধানীবাসী হালকা গরম কাপড় গায়ে দিব্যি ঘুরে বেড়িয়েছে। শীত আসি আসি করছিল। মানুষকে অপ্রস্তত রেখে হঠাত্ গতকাল ভোর রাত থেকে উত্তরে হাওয়ার সাথে ঠান্ডা নামতে শুরু করে। সকালে সুর্যকে ঢেকে রাখে কুয়াশার গাঢ় চাদর। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাইরে ঠান্ডা বাতাস বাড়তে থাকে। তিন দিন আগে পৌষ আসলেও নগরবাসী এখনি কম্বল-কাঁথা-লেপ বের করার কথা ভাবেননি। কিন্তু গতকাল আচমকা শীত জেঁকে বসায় একদিনেই পোশাকে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছেন। গরম কাপড় গায়ে দিয়ে, কানটুপি ও গলায় মাফলার পেঁচিয়ে কিংবা শীতের কাপড়ের জন্য মার্কেটে ছুটতে হচ্ছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডার মাত্রা বেড়ে যায়। কেবল রাজধানী নয়,সারাদেশেই শীত নেমেছে। উত্তরবঙ্গে কনকনে ঠান্ডায় সাধারন মানুষ পড়েছে দুর্ভোগে। আবহাওয়া দফতর বলছে, আজ বৃহস্পতিবার থেকে নগরীতে শীত আরো বাড়বে। উত্তরাঞ্চলে ধেয়ে আসছে শৈত্যপ্রবাহ। সেই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে রাজধানীতেও বইবে হিমেল হাওয়া। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ রাশেদুজ্জামান জানান, মুলত: এদেশে শীত জেঁকে বসে  পৌষের শেষে এবং মাঘে। জলবায়ুর পরিবর্তনগত কারনে আবহায়ার মতিগতি ঠিক থাকছে না। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্য প্রবাহের সম্ভনা রয়েছে। এ কারণে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যাচ্ছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের রংপুর, পঞ্চগড়, রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, নীলফামারী জেলায় আজ থেকে কুয়াশা আরও বাড়বে। সেই সাথে বাড়বে শীতের দাপট। দিন যত যাবে শীতের মাত্রা ততো বাড়তে থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, উপমহাদেশীয় উচ্চ চাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তত্সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। শেষ রাত থেকে সকাল পর্যন্ত উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং দেশের অন্য  অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। সেই সাথে ঠান্ডা। সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি হ্রাস পেতে পারে। গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সজারের টেকনাফে ২৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দুপুর ১২টায় রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদরা জানান,২০, ২১ ও ২২ ডিসেম্বর দেশের কিছু কিছু জায়গায় প্রথম মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। আর দ্বিতীয়টি ২৫ ডিসেম্বরের পর আসতে পারে। ২২ ডিসেম্বরের পর তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে। আর ২৫ ডিসেম্বরের পর আবার মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ পড়তে পারে।

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে কনকনে শীত ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তীব্র শীতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও রাতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে।  গত তিন দিন ধরে মাঝে মাঝে সূর্য উকি মারলেও গতকাল বুধবার সারাদিন সূর্যের মুখ দেখা যায়নি। রাতে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি পড়ছে। এতে শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়ায় শীত বস্ত্রের অভাবে দুস্থ ও অসহায় মানুষ বিপাকে পড়েছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে।

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা  জানান,গত কয়েকদিন ধরে উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে পৌষের শুরুতেই বাড়ছে ্র শীত। ঠান্ডায় চরম বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী ও ছিন্নমুল মানুষ ও পশুপাখি। কনকনে ঠান্ডায় বিশেষ কাজ ছাড়া বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছে না অনেকেই। প্রয়োজন পড়েছে ঠান্ডা নিবারণের জন্য শীত বস্ত্রের। বুধবার উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সেখানকার অধিবাসি খর খুটায় আগুন জ্বালিয়ে ঠান্ডা নিবারনের চেষ্ঠা করছেন।

পীরগাছা (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, নিম্ন আয়ের মানুষ গরম কাপড়ের জন্য ছুটছে পীরগাছা রেলওয়ে স্টেশনে হঠাত্ মার্কেটে। কিন্তু সেখানেও দাম চড়ার কারণে কাঙ্খিত শীতের কাপড় মিলছে না। তীব্র শীতে মানুষের পাশাপাশি কাবু হয়ে পড়েছে গবাদিপশু ও পাখি।

ছাওলা ইউনিয়নের তিস্তার তীরবর্তী চর ছাওলা গ্রামের রহুল আমীন (৫৫) বলেন, ‘আর কন্ না বাবা। জারোত কোকড়া নাগি গেছোও, পারলে মোক বাঁচান।