অভিশংসিত হচ্ছেন ট্রাম্প!

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ০০:৪৬

অনেক তর্কবিতর্কের পর চুড়ান্ত পর্যায়ে এসে পৌছেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইমপিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রচেষ্টা। এ লক্ষ্যে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় বিতর্ক শুরু হয়। শুরুতে পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত করার চেষ্টা করে রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা। তবে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তা ব্যর্থ হয়। টানা ৫ থেকে ৬ ঘন্টা বিতর্কের পর অভিশংসন প্রশ্নে ভোটাভুটি হওয়ার কথা স্থানীয় সময় বিকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে)। প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন ইস্যুতে ভোট হয়েছে এমন তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে ১৮৬৮ সালে এন্ড্রু জনসন ও ১৯৯৮ সালে বিল ক্লিনটন এমন ভোটের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্যের মধ্যে ২৩৬ জন ডেমোক্র্যাট ও ১৯৭ জন রিপাবলিকান সদস্য। তাই ডেমোক্র্যাট সদস্যরা নিজ দলের বিপক্ষে অবস্থান না নিলে অভিশংসনের প্রস্তাবটি খুব সহজেই পাশ হওয়ার কথা। অভিশংসনের উদ্যোগকে শুরু থেকেই কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে আসছেন ট্রাম্প। তিনি একাধিকবার আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছেন, মিথ্যা অভিযোগে হাজার চেষ্টা করেও তাকে অভিশংসিত করা যাবে না। তার দাবি, ‘অভিশংসন প্রচেষ্টার শুরু থেকেই সংবিধানের মূল প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অবৈধ, দলীয় আনুগত্য থেকে নেওয়া এই উদ্যোগ চরমভাবে ব্যর্থ হবে।’

‘চলমান হুমকি’: বুধবার পূর্ণ অধিবেশনে ট্রাম্পের অভিশংসনের ওপর বিতর্ক শুরু হয়। হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার উদ্দেশে স্যালুট ঠুকে বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে সম্মান দেখাতে আজ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি। সফল হলে গণতন্ত্রেরই বিজয় হবে। ট্রাম্পকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘চলমান হুমকি’ হিসেবে মন্তব্য করেন তিনি বলেন, আমাদের গণতন্ত্র ও নির্বাচন ব্যবস্থার জন্য প্রেসিডেন্ট রীতিমতো এক বোঝা। যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল তিনি কঠোর ভাষায় সেগুলো প্রত্যাখান শুধু করেননি, পরবর্তীতে বিচার বা অভিশংসন প্রক্রিয়ায় রীতিমতো বাধাও সৃষ্টি করেছেন।

দুই ধারায় বিতর্ক: পরে হাউস জুডিসিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান নাডলার এই আর্টিকেলের উপর দুই ধারায় বিতর্ক হবে বলে জানান। প্রথম ধারায় আছে নিজের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিকে ফাঁসানোর জন্য রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে অন্য দেশের সরকারকে ব্যবহার করার অভিযোগ। এবং দ্বিতীয় ধারায় আছে, অভিযোগের তদন্ত শুরু করার পর প্রেসিডেন্ট আবারো রাষ্ট্রক্ষমতার জোরে সেই তদন্ত কাজে কিভাবে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে ‘আর্টিকেল অব ইমপিচমেন্ট’ এর উপর প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা একে একে নিজের অবস্থানের পক্ষে বিতর্ক শুরু করেন।

বিস্ময়ে বিমূঢ় ট্রাম্প: ট্রাম্পের একজন উপদেষ্টা মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা যে অভিশংসন প্রক্রিয়াকে আসলেই এত দূর নিয়ে আসতে পেরেছে তা দেখে প্রেসিডেন্ট বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে গেছেন। তার ধারণা ছিল, স্রেফ খানিকটা ভয় দেখানোর জন্য তারা এ প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যে কারণে প্রথম দিকে তিনি টুইট করে নানা রকম বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করেছেন। কিন্তু অনেক পরে তিনি বুঝতে পারেন, বিরোধীরা বুঝে শুনেই এই কাজে নেমেছে। তারা চুড়ান্তভাবে সিনেটে তাকে অভিশংসিত করতে না পারলেও আসন্ন নির্বাচনে যে ভোটের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে সেটা তিনি বুঝতে পারছেন।

চুড়ান্ত পরিণতি কি হবে: প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি পাশ হলেও পরবর্তীতে অবশ্যই তা উচ্চকক্ষ সিনেটেও পাশ হতে হবে।  সিনেটে ১০০ জন সদস্যের মধ্যে মধ্যে ৫৩ জন রিপাবলিকান আর স্বতন্ত্রসহ ৪৭ জন ডেমোক্র্যাট সদস্য। তাই সিনেটে যে ট্রাম্পের অভিশংসন প্রক্রিয়া আটকে যাবে সেটা অনেকটা নিশ্চিত। তবে নিজ দলের সদস্যদের একটি বড় অংশ যদি ‘বেইমানি’ করে  ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে হাত মেলান তবে ভিন্ন কথা।

উল্লেখ্য, আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি থেকে নিজের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বি হতে পারেন জো বাইডেন। তাই তাকে আগেভাগেই বিতর্কিত করে তুলতে তার ও তার ছেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু করতে ইউক্রেন সরকারকে অনুরোধ করেন তিনি। বিষয়টি প্রকাশ হবার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ফলে তাকে পদ থেকে সরাতে অভিশংসনে উদ্যোগী হয় প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। সূত্র: বিবিসি, সিএনএন।