ভবিষ্যতে বিজিবি শ্রেষ্ঠ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মর্যাদা অর্জন করবে ---------------- প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৪৬

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজিবিকে বিশ্বমানের সীমান্তরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ‘বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ভিশন ২০৪১’ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। জাতির পিতার হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠান অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পার করেছে। আগামী দিনে এই সীমান্তরক্ষী বাহিনী সারা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মর্যাদা অর্জন করবে—সে বিশ্বাস আমার আছে।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে বিজিবি দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের সরকার এ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিজিবি পুনর্গঠনের আওতায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিজিবির সুনাম অক্ষুণ্ন রাখার জন্য এই বাহিনীর সদস্যদের দেশপ্রেম এবং দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং চেইন অব কমান্ড মেনে চলার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বিদ্রোহ ও হত্যাকাণ্ড বিজিবির (তত্কালীন বিডিআর) ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন। ঐ ঘটনায় ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন।

প্রধানমন্ত্রী ঐ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বাহিনীর তত্কালীন মহাপরিচালকসহ যে সকল অফিসার, অন্যান্য সদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তি শহিদ হয়েছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। তিনি বলেন, বিডিআর বিদ্রোহের সঙ্গে সম্পৃক্ত উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী বিডিআর সদস্যদের আইনের আওতায় এনে বিচারের মাধ্যমে এ বাহিনী এখন সম্পূর্ণ কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। জাতির পিতা দেশের স্বাধীনতা দিয়ে গেলেও দেশ স্বাধীনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ায় বাংলার জনগণকে তার কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক মুক্তি দিয়ে যেতে পারেননি। এর আগে বিজিবি সদস্যরা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়। কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একটি সুসজ্জিত খোলা জীপে করে প্যারেড পরিদর্শনকালে বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম এবং প্যারেড কমান্ডার কর্নেল এ এম এম খায়রুল কবির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বিজিবি দিবস উপলক্ষ্যে বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিজিবির কর্মকর্তাদের মাঝে বর্ডার গার্ড পদক, রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক, বর্ডার গার্ড পদক সেবা এবং রাষ্ট্রপতি বর্ডার গার্ড পদক সেবা বিতরণ করেন।