সরকারি-বেসরকারি সব বিভাগের সংশ্লিষ্টদের জনকল্যাণে কাজ করার তাগিদ দিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘ক্ষমতা জনগণের খেদমতের জন্য, ভাব দেখানোর জন্য নয়।’ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আজ আমি রাষ্ট্রপতি, মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে আমি সাধারণ মানুষ। রাষ্ট্রপতি হয়েছি জনগণের কল্যাণের জন্য। আমাদের একটা পজিশনে গেলে ভাব চলে আসে। ক্ষমতা হচ্ছে জনগণের কল্যাণের জন্য। তাদের ভালো করার জন্য, ভাব দেখানোর জন্য নয়। যত বিভাগ আছে সরকারি-বেসরকারি সব জনগণের পয়সা দিয়ে চলে। এটা মনে রাখতে পারলে বাংলাদেশ আসলেই সোনার বাংলা হবে।’
সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে ঐ অনুষ্ঠানে রাজনীতিতে আইনজীবীদের প্রাধান্য কমে ব্যবসায়ীদের সামনে চলে আসা নিয়ে আক্ষেপ করেন আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি সব কিছু দখল করে নিয়ে যায় তাহলে পরিবেশটা ভালো হওয়ার লক্ষণ মনে করি না। এ রকম কেন হচ্ছে, সেটা ভেবে দেখতে হবে।’
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ওই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে মামলার রায় হওয়ার পর বিচারপ্রার্থীদের রায়ের অনুলিপি পেতে যেন দেরি না হয় সেদিকে বিচারকদের ‘খেয়াল’ রাখতে বলেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, বিচারপ্রার্থীদের যেন আদালতের বারান্দায় ঘোরাঘুরি করতে না হয়। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারকদের আরো বেশি কাজ করতে হবে। মামলার রাশ টেনে ধরতে বিকল্প নিষ্পত্তির উদ্যোগ নিতে হবে। রাষ্ট্রের তিনটি বিভাগের মধ্যে যাতে ভারসাম্য বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের রয়েছে জুডিশিয়াল রিভিউয়ের ক্ষমতা। তবে এই ক্ষমতা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে প্রয়োগ করতে হবে যাতে রাষ্ট্রের অন্য দুটি অঙ্গের কার্যক্রম ও মর্যাদার হানি না হয়। দেশ, জনগণ ও সংবিধানের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে বিচারকগণ তাদের মেধা ও মনন প্রয়োগের মাধ্যমে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন, দেশবাসী তা প্রত্যাশা করে। অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক ও আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে রক্তদান কর্মসূচি ও কেক কেটে সুপ্রিম কোর্ট দিবসের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি।
