বাংলাদেশে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন করতে হলে সরকারি পরিষেবা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় দায়বদ্ধতা, জবাবদিহিতা ও জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা জরুরি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অধিবাসীরা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা প্রাপ্তির অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে জাতীয় উন্নয়ন নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকারি সংস্থাসমূহের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। পাশাপাশি তৃণমূল জনসাধারণের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
গতকাল ঢাকায় অনুষ্ঠিত ‘গণতান্ত্রিক সুশাসন ও উন্নয়ন: জনসম্পৃক্ত তৃণমূল প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা’ শীর্ষক সম্মেলনে এ প্রস্তাবগুলো উঠে আসে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) এবং অক্সফাম ইন বাংলাদেশের যৌথ আয়োজনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ-এর অর্থায়নে পূর্বাচলের আইসিসিবি মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী, এমপি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ আহমদ মজুমদার এমপি বিশেষ অতিথি, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেন্সজে তেরিঙ্ক, সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এক্ষেত্রে জাতীয় থেকে তৃণমূল সব পর্যায়ে সরকারি পরিষেবা ও জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। হাফিজ আহমদ মজুমদার বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা ও অংশগ্রহণ বৃদ্ধি জরুরি। দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এসডিজির মূলমন্ত্র হলো উন্নয়নের আগ্রযাত্রায় কাউকে পেছনে ফেলা যাবে না।
