নিজের ক্যারিয়ারের ৫০তম চলচ্চিত্র নির্মাণ করছেন তিনি। এদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে যে ক’জন জনপ্রিয় চিত্রপরিচালক ৮০ ও ৯০-র দশকে দাপিয়ে কাজ করেছেন, চলচ্চিত্র পরিবেশনায় যাদের মুভিতে নায়ক-নায়িকা মুখ্য থাকেনি, সেগুলো হয়ে উঠেছে পরিচালকের চলচ্চিত্র, তাদের এক অনন্য প্রতিনিধি কাজী হায়াত্। নিজের ৫০তম চলচ্চিত্র ‘বীর’ এবং সাম্প্রতিক চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাত্কার
নিয়েছেন তানভীর তারেক
কী ভেবে প্রথমে জানতে চাই বিরতি দিয়ে কাজ শুরু করলেন! দর্শকরাও নিশ্চয়ই মিস করেছে আপনার ছবিগুলো—
হয়তো মিস করেনি সেভাবে। দেখুন, এর আগে কিছু ছবি আমার চলেনি। প্রডিউসারকে লোকসান করিয়ে আমি কোনো কাজ করতে চাই না। আমার নিজেরও কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। তাই বিরক্ত হয়েই বিরতিতে ছিলাম। ব্যক্তিগত কিছু কারণও ছিল।
এবার শাকিব খানকে নিয়ে বীর ছবিটি ঘিরে কতটা আশাবাদী আপনি?
আমি প্রথমে ‘বীর’ ছবিটি করতে চাইনি। কারণ এই বাজারে এত বাজেটের ছবি করার পক্ষে আমি নই। এরপরও শাকিব বললো, আমার ক্যারিয়ারে কাজী হায়াতের একটি ছবি রাখতে চাই। এছাড়া এখন তো ছবির বাজারটাও আস্তে আস্তে বাড়ছে। সব মিলিয়ে ছবির গল্প আর শাকিবের কেমিস্ট্রিতে, এই ছবি দারুণ কিছু হবে বলে আমার বিশ্বাস।
ছবির প্রথম প্রকাশিত পোস্টার নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এ নিয়ে আপনার বক্তব্য শুনতে চাই? সবাই বলছে ছবিটি কন্নড় ভাষায় তৈরি কেজিএফ-এর থিম নিয়ে। দর্শকদের এই বিভ্রান্তি কেন?
দেখুন প্রথমত, আমি বলি কেজিএফ নামের যে ছবি আছে আমি তা-ই জানি না। কেজিএফ দেখিনি, তাই নকল করার প্রশ্নই আসে না। এমনকি গত কয়েকবছর আমি কোনো সিনেমাই দেখি না। টুকটাক নেটফ্লিক্সের ছোট ছোট সিরিজগুলো দেখি। বীর ছবির লোকেশন দেখতে গিয়ে পূবাইলের এক কয়লার ডিপো আর নদীর পাড় দেখলাম আমার ছবির সঙ্গে মানানসই। যেখানে এন্ড ক্লাইমেক্সটা হবে। এখানে ভিলেন থাকবে ইয়াবা ব্যবসায়ী। সেই চক্রকে ধরতেই মিশন চলে। এখানে নদীর নোঙর থাকবে, সেটা পোস্টারে এসেছে। কিন্তু গল্পের কোনো মিল নেই। সুতরাং নকলের প্রশ্নই আসে না। তবে এটা ঠিক, যে ছেলেটি গ্রাফিক্স ডিজাইন করেছে সে হয়তো অন্য কোনো পোস্টার থেকে প্রভাবিত হতে পারে।
এই যে দর্শকরা আস্থাহীনতায় ভুগছে। কোনো পরিচালকের ছবি রিলিজের আগেই ভাবছে যে, এটা নকল কি-না। এখন আপনাদের ক্ষেত্রেও বলা হয়, আগের দিনেও আপনারা নকল করতেন, কিন্তু যেহেতু ইন্টারনেট ছিল না তাই সেসময় বুঝতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে কী বলবেন?
আমি সবসময় মৌলিক গল্প করেছি এর প্রমাণ আছে। এছাড়া আমি ছবির ধারাবদল করেছি। বস্তির ছেলেরা যে ভাষায় কথা বলে সেটাই ছবিতে দেখিয়েছি, যা এখন ফারুকীরা তাদের ছবিতে ব্যবহার করে। আর দর্শকদের আস্থাহীনতার জন্য অনেককিছুই দায়ী। শুধু একটা কথা বলি, আমি আর মান্না যেমন একের পর এক জুটি বেঁধে কাজ করেছি। এক পর্যায়ে মিনিস্টার ছবির শিডিউল নিয়ে আমার সঙ্গে মান্নার দ্বন্দ্ব তৈরি হলো। আমি কিন্তু একেবারে আমার আনকোরা ছেলে মারুফকে দিয়ে ছবি সুপারহিট করেছি। যে ছবিতে সে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছে। আমিও পেয়েছি নির্মাতা হিসেবে। আমি মান্নাকে দেখতাম ২৪ ঘণ্টা ছবির ভেতরে ডুবে থাকতে। সে নিজের ছবি হলে গিয়ে তো দেখতোই, তার পাশাপাশি অন্যের ছবিও টঙ্গি, জয়দেবপুরে লুকিয়ে লুকিয়ে গিয়ে দেখে আসতো। ও দেখতো সাধারণ দর্শক কী করলে উল্লাসিত হয়। তালি দেয়, কেঁদে ওঠে। এসব প্যাশন থাকাটা জরুরি।
মান্নাকে সুপারস্টার বানিয়েছেন। এখনকার সুপারস্টার শাকিব খানকে নিয়ে কাজ করছেন। শাকিব প্রসঙ্গে শুনতে চাই—
নিঃসন্দেহে শাকিব খান এখন একজন পরিণত অভিনেতা। ওকে তো আমি এই ইন্ডাস্ট্রিতে বড় হতে দেখলাম। তবে আউটডোর শুটিং করতে গিয়ে বুঝলাম ওর জনপ্রিয়তা ভীষণ। এছাড়া আমি বলবো ইন্ডাস্ট্রিতে দু’জন নিজেদের একান্ত চর্চায় পরিণত অভিনেতা হিসেবে তৈরি হয়েছে। তারা দু’জন হলো মিশা সওদাগর ও শাকিব খান।
শেষে এখনকার দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন —
দর্শকদের উদ্দেশ্যে একটিই কথা—সিনেমা হলে বসে দেখার মাধ্যম। এটা এক ধরনের সংস্কৃতি। আমরা যেমন খাওয়া-পরার ভেতরে নিজেদের কালচার তৈরি করে রেখেছি। সেভাবেই আমাদের হলে গিয়ে ছবি দেখতে হবে। এটার নামই দেশপ্রেম। এই প্রেমটা সবার ভেতরে থাকতে হবে।
