আক্রান্ত অনেকেই
হাবিবুর রহমান খান, ফেনী প্রতিনিধি
ফেনী জেলার তিনটি উপজেলার অধিকাংশ নলকূপের পানিতে আর্সেনিক রয়েছে। বিশেষ করে ফেনী সদর, দাগনভূঁইয়া ও সোনাগাজী উপজেলার নলকূপগুলোর পানিতে আর্সেনিকের কারণে লোকজন পানি পান করে রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর আর্সেনিকযুক্ত পানি পান থেকে বিরত থাকার জন্য সচেতনতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।
ফেনী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাঠকর্মী আবদুল আজিজ বলেন, ‘পর্যাপ্ত কারিগরি দক্ষতার অভাব, স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নানা অনিয়ম রয়েছে। তাছাড়া আর্সেনিক মোকাবেলায় এই বিভাগে যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ না থাকায় ফেনী পৌর এলাকায় ৮০ ভাগ বাসিন্দা ও ফেনী সদর উপজেলাসহ তিনটি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ আর্সেনিক যুক্ত খাবার পানি পান করছেন। এতে প্রতিদিন নানারকম জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।’
অপরদিকে ফেনী শহর এলাকাসহ উল্লিখিত তিনটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মানুষ আর্সেনিকমুক্ত নলকূপের পানি পান করার জন্য প্রতিদিন স্থাপন করছে নতুন নতুন অগভীর নলকূপ। কিন্তু আর্সেনিক নির্ণয়ের জন্য জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও কেমিক্যাল না থাকায় নলকূপের পানিতে কি পরিমাণ আর্সেনিক রয়েছে তা জানতে পারছেন না। এদিকে স্থানীয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র জানায়, বর্তমানে ফেনী জেলার সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার অগভীর নলকূপ থাকলেও প্রতিদিন মাত্র ২০ ভাগ অধিবাসী বিশুদ্ধ পানি পান করছে। অন্যদিকে ফেনী পৌর এলাকার জনগণের প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ গ্যালন বিশুদ্ধ পানির চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত পাম্প মেশিন ও ওভারহেড ট্যাংঙ্ক না থাকায় পৌর জনগণ বিশুদ্ধ আর্সেনিকমুক্ত পানি পান করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ফেনীর পৌর প্যানেল মেয়র আশ্রাফুল আলম গিটার জানান, পৌর এলাকায় যে সব নলকূপে আর্সেনিক রয়েছে, সেগুলো লাল রং দিয়ে চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং শহরের বাইরে গভীর নলকূপের পানির জন্য ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণের জন্য পৌরসভা থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
