রাজাকারের তালিকা :ঘুঁটি নাড়িল কাহারা

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩৯

রাজাকারের তালিকা প্রণয়নে অসংগতির প্রসঙ্গটি আমাদের চিন্তায় বারবার প্রবেশ করিয়া নাড়াইয়া দিতেছে। যদিও বিতর্কের মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তালিকাটি স্থগিত করিয়াছে, কিন্তু উহা লইয়া আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রহিয়াছে।

ইহা পরিষ্কার যে, এই তালিকা একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়া আসিয়াছে। মন্ত্রী মহোদয়ের টেবিলে পৌঁছাইবার পূর্বে ইহা ওসি, সহকারি সচিব, উপসচিব, যুগ্ন সচিব, অতিরিক্ত সচিব হইয়া সচিবের নিকট গিয়াছে। ইহাই প্রশাসনিক নিয়ম। এই এতগুলি স্তর পার করিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইল আসিলে তাহাতে মন্ত্রী মহোদয়ের যাচাই করিবার কিছু থাকিবার কথা নহে। হাজার হাজার নামের তালিকা কি মন্ত্রী মহোদয়ের পক্ষে পরখ করা সম্ভব, নাকি তাহা বাস্তব চিন্তা? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এই তালিকা দেখিয়া কষ্ট পাইয়াছেন এবং নিজে ব্যস্ততার কারণে খেয়াল রাখিতে পারেন নাই বলিয়া জানাইয়াছেন। ইহাই তো স্বাভাবিক। তিনি প্রায় ১৭ কোটি মানুষের একটি সরকারের প্রধান নির্বাহী। তাহার পক্ষে তালিকার আদ্যোপান্ত খবর রাখা অসম্ভব।

আমাদের অভিজ্ঞতা তিক্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সোনার নৌকা উেকাচ দিয়া যেইখানে দলীয় পদ গ্রহণ করা যায়, উেকাচ দিয়া যেই দেশে রাজাকার হইতে পারে মুক্তিযোদ্ধা—সেইখানে মুক্তিযোদ্ধাও যে অনিয়ম-অবহেলায় রাজাকারের তালিকায় ঢুকিয়া যাইবে না, এমন নিশ্চয়তা কে দিবে? তাহার পরও আমরা বলিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যে বোঝাপড়ায় অসংগতি দেখা গিয়াছে তাহা দুঃখজনক। কিন্তু তালিকায় ভুল নাম প্রণয়নের সঙ্গে এই অসংগতির সম্পর্ক খুবই কম। কারণ, ত্রুটিপূর্ণ তালিকাটি এই দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীরা তৈরি করেন নাই। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিয়াছে বটে, কিন্তু উহা সঠিক ও সুচারুরূপে উপস্থাপন করিবার দায় ছিল যাহাদের উপর, তাহাদের অধিকাংশের মনোনিবেশ যে অর্পিত দায়িত্বের বদলে অবৈধ অর্থের দিকে, সেই সম্পর্কে দেশবাসী পরিষ্কার ধারণা রাখে। সুতরাং যতই মুক্তিযুদ্ধের তালিকা স্থগিত হউক না কেন, উহাদের চিহ্নিত করিতে হইবে। এই ইতিবাচক উদ্যোগে কাহারা অবহেলা করিয়াছেন অথবা ঘুটি নাড়িয়াছেন তাহাও সন্ধান করিয়া বাহির করা জরুরি। ক্ষেত্র বিশেষ যাহারা রাজাকার, শান্তি বাহিনীর পরিচয় ঢাকিয়া নব্য আওয়ামী নেতা হইয়াছেন, তাহারাও যে প্রশাসনের একশ্রেণির কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে, অর্থকড়ির বিনিময়ে পিছন হইতে ঘুঁটি নাড়িয়া থাকিতে পারেন, উহাও মাথায় রাখিতে হইবে। সে যাহাই হউক, একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটিয়া গিয়াছে। আমরা আশা করি, পরবর্তী সময়ে ইহা যাচাই বাছাই করিয়া, সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হইবে।