এনডিটিভি
শান্তিপূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যারা প্রতিবাদ করছেন তাদের ওপর হিংসাত্মক আচরণ করা ভুল—জামিয়া এবং আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। রবিবার সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করার সময় যেভাবে জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের লক্ষ্য করে কড়া পুলিশি অভিযান হয়, তারই নিন্দা করেন ঐ অভিনেত্রী। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে যে সব অমুসলিম ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন তারা এবার ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারবেন। নতুন আইনটির মাধ্যমে ধর্মের ভিত্তিতে বিবেচনা করে অবৈধ অভিবাসীদের দেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থি, এমনটাই দাবি করে ঐ আইনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায়।
রবিবার দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যখন নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদ করছিলেন সেই সময়েই বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বিনা অনুমতিতে প্রবেশ করে পুলিশ, আটক করে বিক্ষোভরত শতাধিক পড়ুয়াকে। ‘প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষা আমাদের স্বপ্ন, আর শিক্ষাই তাদের স্বাধীনভাবে চিন্তাভাবনা করার শক্তি দিয়েছে, আর সেই কণ্ঠগুলোই এখন সোচ্চার হচ্ছে’, বলেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া জোনাস। ‘প্রতিটি কণ্ঠই ভারতকে পরিবর্তনের জন্য সরব হবে’ টুইটারে বলেন অভিনেত্রী। যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকে অভিযান চালিয়েছে দিল্লি পুলিশ, সে বিষয়ে প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছে প্রায় গোটা বলিউড। প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন অভিনেতা ফারহান আখতার, হূতিক রোশন, মহম্মদ জিশান আয়ুব, পরিণীতি চোপড়া, সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, প্রবীণ চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার, চলচ্চিত্র নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ ও অনুরাগ কাশ্যপ। এই ঘটনায় সরব হয়েছেন হলিউড অভিনেতা জন কুস্যাকও।
গত বুধবার রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এই আইনে স্বাক্ষর করার পরেই দেশ জুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু হয়। এই আইন নাগরিকদের জীবন ও মৌলিক অধিকার তথা সাম্যের অধিকার লঙ্ঘন করে, বলছেন এই আইনের বিরোধীরা।
