ইত্তেফাক রিপোর্ট
দেশের তরুণ শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে অষ্টপ্রহর রাগ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হলো দুদিনের শুদ্ধ সংগীত উত্সব। ছায়ানটের আয়োজনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে শুদ্ধ সংগীতের শিল্পী ও ওস্তাদরা এসে জড়ো হয়েছেন ঢাকায়। গতকাল সন্ধ্যায় ছায়ানটের প্রধান মিলনায়তনে শুদ্ধ সংগীতের দশম এই আসরের উদ্বোধন করেন ময়মনসিংহের বরেণ্য তবলাবাদক পণ্ডিত পবিত্র মোহন দে। স্বাগত ভাষণ দেন ছায়ানটের সহসভাপতি খায়রুল আনাম শাকিল।
শুদ্ধ সংগীতের প্রতি আগ্রহ তরুণদের মাঝে কমে এসেছিল। ছায়ানট সেই ধারাকে বেগবান করতে সবসময় শুদ্ধ সংগীতের প্রশিক্ষণ চর্চা অব্যাহত রেখেছে। গত ১২ বছর ধরে তারা সারাদেশের শিল্পীদের নিয়ে আয়োজন করছে এ উত্সব। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উদ্বোধনী পর্ব।
পবিত্র মোহন দে বলেন, রাগ সংগীত প্রাণহীন হয়ে পড়েছে। এখনকার তরুণদের মাঝে রাগ সংগীতের চাইতে হালকা সংগীতের প্রতি আগ্রহ বেশি দেখি। যাদের শুদ্ধ সংগীতের প্রতি আগ্রহ রয়েছে তারা সঠিক তালিমের অভাবে এ সংগীতের পথ থেকে সরে যায়। তাই শুদ্ধ সংগীতের প্রসার বাড়াতে এ সংগীতের শিক্ষকদের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। তিনি বলেন, ছায়ানট দেশের সংগীত চর্চায় অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। শুদ্ধ সংগীত প্রসারেও তাদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। আমার বিশ্বাস ছায়ানটের নিষ্ঠা দেশের তরুণ শিল্পীদের শুদ্ধ সংগীত চর্চায় আগ্রহী করে তুলবে।
খায়রুল আনাম শাকিল বলেন, ছায়ানট গত ১২ বছর ধরে নিয়মিত শুদ্ধ সংগীত উত্সবের আয়োজন করে চলেছে। দেশের নানা প্রান্তের শিল্পীদের তুলে ধরার জন্য এই আয়োজন। আশা করি, তরুণ শিল্পীরা এ উত্সবকে কেন্দ্র করে নিজেদের সংগীত চর্চায় প্রেরণা খুঁজে নেবে।
ছায়ানটের শিল্পীদের দলীয় পরিবেশনার পর ছিল ত্রয়ী শিল্পীর যন্ত্রসংগীত পরিবেশনা। তবলা বেহালা ও বাঁশির সুরে মাতান যথাক্রমে সবুজ আহমেদ, শান্ত আহমেদ ও কামরুল আহমেদ। এরপর সতীন্দ্রনাথ হালদার রাগ পুরিয়া গেয়ে শোনান। শিল্পী অনিল কুমার সাহা এসে শোনান রাগ পুরিয়া ধানেশ্রী, চট্টগ্রামের শিল্পী স্বর্ণময় চক্রবর্তী গেয়ে শোনান রাগ মারবা আর সবশেষে বাঁশিতে শোনান রাগ ভুপালী। আজ শুক্রবার উত্সবের দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যা থেকে দেশসেরা শিল্পীরা সারা রাতের এ রাগসংগীতের আসরে অংশ নেবেন।
