প্রতিবন্ধী শিশুর শিক্ষায় চাই পাঠ্যক্রম সংস্কার

আপডেট : ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৭

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

ইত্তেফাক রিপোর্ট

মূল ধারার সঙ্গে প্রতিবন্ধী শিশুদের একীভূত শিক্ষার আওতায় আনতে সরকার ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি করে। কিন্তু দীর্ঘ ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রতিবন্ধী নারী-শিশুদের অংশগ্রহণের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ফলে অধিকাংশ প্রতিবন্ধী শিশু শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। আর যারা সুযোগ পাচ্ছে তারা সম্মুখীন হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতার।

গতকাল দৈনিক ভোরের কাগজ কনফারেন্স হলে ‘একীভতূ শিক্ষা বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী নারীর বাধাসমূহ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্যা চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যন) ও দৈনিক ভোরের কাগজ এই বৈঠকের আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে প্ল্যান ইন্টারন্যাশলান বাংলাদেশ ও গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স।

প্রধান অতিথি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ) মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খুব কম সংখ্যক প্রতিবন্ধী শিশুই লেখাপড়া করে। তাদের জন্য বিশেষ করে সরকারি ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আমি বলব কাজ শুরু হয়েছে। এ কথা সত্য আমরা প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য সেভাবে চিন্তা করে অবকাঠামো নির্মাণ করিনি। তবে প্রতিবন্ধী ছেলে-মেয়ে উভয়ের কথা ভেবেই কাজ করছি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশিষ্ট লেখক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন, সমস্যা যেমন আছে তেমনি সমাধানও আছে। শিক্ষা কারিকুলামের সংস্কার প্রয়োজন। সেই সঙ্গে প্রযুক্তিকেও কাজে লাগাতে হবে।

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব আলম বলেন, প্রতিবন্ধকতা জয় করে সাফল্যের শিখরে উঠেছেন এমন উদাহরণ বিশ্বে রয়েছে। তবে আমরা প্রতিবন্ধীদের জন্য তেমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারিনি। একবারেই যে তা পারব তা নয়। তবে আশার কথা হলো কাজ হচ্ছে। দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের এগুতে হবে।

মুক্ত আলোচনায় বক্তারা বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতির বইসহ শিক্ষাব্যবস্থা থাকলেও শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের উপযোগী কোনো শিক্ষক নেই। ফলে এই স্তরের শিক্ষার্থীরা কিছুদিন স্কুলে গেলেও ক্লাসের পাঠ বুঝতে না পেরে পড়ালেখায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। এ বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।