ইত্তেফাক ডেস্ক
আমেরিকার ইতিহাসে তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসিত হলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগে সংখ্যাগরিষ্ঠ রায় দিয়েছে। একটি অভিযোগ, তিনি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। আরেকটি হচ্ছে তিনি কংগ্রেসের কার্যক্রমে বাধা প্রয়োগ করেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার হাউসের পূর্ণ অধিবেশনে টানা ৬ ঘন্টার বিতর্ক শেষে দু’টি অভিযোগের ক্ষেত্রেই অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক ভোট পড়ে। প্রথম অভিযোগের ক্ষেত্রে ২৩০ ভোট পড়ে অভিশংসনের পক্ষে এবং ১৯৭ ভোট পড়ে বিপক্ষে। দ্বিতীয় অভিযোগের ক্ষেত্রে অভিশংসনের পক্ষে পড়ে ২২৯ ও বিপক্ষে ১৯৮ ভোট। এখন এ বিষয়ে চুড়ান্ত বিচারের ভার সিনেটের উপর। সেখানেই নির্ধারিত হবে আসলেই ট্রাম্পের ক্ষমতা ছাড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরী হবে কি না। যদিও সিনেটে ট্রাম্পের দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ।
অভিশংসনের পর হোয়াইট হাউসও একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, সিনেট ট্রায়ালে অভিযোগ থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি পাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প ছাড়া আর যে দুজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট এর আগে অভিশংসিত হয়েছেন তারা হচ্ছেন অ্যান্ড্রু জনসন (১৯৬৮ সালে) এবং বিল ক্লিনটন ১৯৯৮ সালে ।
এদিকে, এই ভোটাভুটি যখন চলছিল তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি প্রচারণা সভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন। মিশিগানের ব্যাটল ক্রিকের এই জনসভায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যখন মিশিগানের জন্য লড়াই করছি, নতুন কর্মসংস্থান করছি, তখন কংগ্রেসের কট্টর বামপন্থীরা ঘৃণা ও বিদ্বেষে পূর্ণ হয়ে আছে, আপনার দেখতেই পাচ্ছেন কী ঘটছে সেখানে।’
ডেমোক্রেটিক হাউস স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি একটি উদ্বোধনী ভাষণের মাধ্যমে বুধবারের শুনানি শুরু করেন। তিনি বলেন, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে আমেরিকানরা গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য লড়েছে এবং মরেছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের প্রতিষ্ঠাতার যে প্রজাতন্ত্রের দর্শন তা হোয়াইট হাউসের কর্মকান্ড হুমকির মুখে পড়েছে। আমরা যদি এখনই ব্যবস্থা না নেই তাহলে তা হবে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। এটা দুঃখজনক যে প্রেসিডেন্টের কাজ্ঞানহীন কর্মকান্ড এই অভিশংসনকে জরুরি করে তুলেছে। তিনি আমাদের জন্য আর কোন সুযোগই রাখেননি।’
ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি জো কেনেডি, যিনি প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির একজন প্রপৌত্র, তিনি তার বক্তব্যে নিজের সন্তানদের সম্বোধন করে বলেন, ‘প্রিয় এলি এবং জেমস: এটা এমন একটা মুহুর্ত যেটাকে তোমরা তোমাদের ইতিহাসের বইতে পড়বে।’ ম্যাসাচুসেটসের এই কংগ্রেসম্যান প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ক্ষমতাকে নিজের মানুষদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন।
শীতকালীন ছুটির পর জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে সিনেট এই বিচারের ব্যাপারে সাধারণ সম্মতি নেয়া শুরু করবে। ডেমোক্র্যাটদের বক্তব্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, উচ্চকক্ষে ট্রাম্পের অভিশংসিত হওয়ার প্রায় কোনোরকম সম্ভাবনা নেই। তবুও তারা এই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে শুধুমাত্র প্রেসিডেন্টকে তার কৃতকর্মের জন্য দায়ী করার উদ্দেশ্য থেকে। ক্ষমতার অপব্যবহার করার দায়ে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালনা না করলে হয়তো তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনকে ঘিরে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতেন যা বিরোধী দলকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করতো। -বিবিসি
