আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের এবারের শপথ হবে জঙ্গি নির্মূল ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তিকে রুখে দেওয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের জন্য তৈরি মঞ্চ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি আরো বলেন, সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিষবৃক্ষ তুলে ফেলা এবং জঙ্গি নির্মূল বর্তমান সরকারের চ্যালেঞ্জ। এটি বাস্তবায়নে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগের এবারের কমিটিকে আরো গতিশীল করা হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলে সাধারণ সম্পাদক পদসহ কোনো পরিবর্তন আসছে কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তাছাড়া নেত্রী দলের নতুন টিম কীভাবে সাজাবেন, তা তিনি নিজেই ঠিক করবেন। সম্মেলন ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ঘুরেফিরে আসছে সাধারণ সম্পাদক পদে ওবায়দুল কাদেরের থাকা না-থাকার বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী আসলে কী চান? কাকে চান? নতুন কাউন্সিল থেকে যে নেতৃত্ব আসবে, এই নেতৃত্ব তিনি কোন মডেলে রিকাস্ট করবেন এবং কীভাবে সাজাবেন, নিজেই সেটি ঠিক করবেন। এ বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’ এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘দল আর সরকার গুলিয়ে ফেলার কোনো বিষয় থাকবে না। আলাদা করা তো কোনো বিষয়ই না। আমাদের সভাপতি তো দলের সভাপতি আবার তিনি প্রধানমন্ত্রীও। সেখানে তিনিই অপরিহার্য ব্যক্তি। আমরা অনেকেই অপরিহার্য না, আমাদের বিকল্প আছে। শেখ হাসিনার বিকল্প এই পার্টিতে এখনো নাই।’
সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘দলকে শক্তিশালী করা না গেলে সরকার সফল হয় না। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে হবে। সে লক্ষ্যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বর্তমান কমিটির সফলতা-ব্যর্থতার মূল্যায়ন করবেন দলীয় নেতাকর্মী ও জনগণ। আওয়ামী লীগের বিভাগীয় ও জেলা কমিটিগুলো সফলভাবে কাজ করেছে বলেও জানান তিনি। সেতুমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর ভিশন সফল করতে আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি কাজ করবে। দলের গঠনতন্ত্র পরিবর্তন ও সংশোধন হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, এবারের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। উত্সবমুখর পরিবেশে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এ সময় আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য মির্জা আজম এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ দক্ষিণের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফী, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উত্তরের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
