কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) সংবাদদাতা
কাপ্তাই উপজেলা সদর বরইছড়ি থেকে ঘাগড়া পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার পথে পুঁতে রাখা হয়েছে বিপজ্জনক সংকেতের ৭৪টি লাল পতাকা। সড়কের প্রতিটি বাঁকে, রাস্তার ধারে একটি বাঁশের চিকন কঞ্চিতে লাল পতাকা উড়তে দেখা যায়। কাপ্তাই ঘাগড়া সড়কে কেন এতগুলো লাল পতাকা উড়ছে জানতে চাইলে স্থানীয় ওয়াগ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুবিমল তনচংগ্যা জানান, যানবাহনকে সতর্ক করার জন্যই এই লাল পতাকা পুঁতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন কবলিত স্থান ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। মানুষ ও যানবাহন চলাচলে দুর্ঘটনা এড়িয়ে চলতে সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে এই লাল পতাকা পুঁতে রাখা হয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান চিরনজিত তংচংগ্যা জানান, কাপ্তাই-ঘাগড়া সড়কে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ছাড়াও বড়ো ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসও প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। রাতেও অনেক যানবাহনকে এই সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। সড়কের ৭৪টি স্থানে লাল পতাকা থাকা সত্ত্বেও সড়ক সংস্কারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একাধিক যাত্রীবাহী বাসচালক এই প্রতিনিধিকে বলেন, কাপ্তাই ঘাগড়া সড়ক দিয়ে বান্দরবান-রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, রাজস্থলীসহ বিভিন্ন রুটের যানবাহন চলাচল করে। এই সড়ক দিয়ে রাঙ্গামাটি এবং খাগড়াছড়িতে ভ্রমণে আসা গাড়িগুলো সরাসরি কক্সবাজারেও যাতায়াত করে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ আপাতত লাল পতাকা দিলেও ঝুঁকিমুক্ত হওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে রাতের বেলায় গাড়ি চালাবার সময় লাল পতাকা চোখে পড়ে না। চালকরা বলেন, সড়কটি এমনিতেই পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। এছাড়াও সড়কে রয়েছে অসংখ্য বাঁক।
রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য শান্তনা চাকমা এ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সড়কটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে আছে। এ ব্যাপারে তিনি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলবেন বলে জানান। সড়ক ও জনপথ বিভাগের স্থানীয় প্রকৌশলী মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, সড়কের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। সতর্কতাস্বরূপ আপাতত লাল পতাকা দেওয়া হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে বলেও তিনি জানান।
