ভেকু মেশিন জব্দ
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে দিনে-রাতে চলছে কৃষি জমিতে পুকুর ও দিঘি খননের কাজ। এতে চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়ছে বলে স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেছেন। এদিকে, এক সপ্তাহে পাঁচটি পুকুর খনন বন্ধ, খননের কাজে ব্যবহারকৃত ছয়টি ভেকু মেশিন জব্দ, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তিন জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার রিশিকুল ইউনিয়নের আন্দ্রাইল মাঠে পবা উপজেলার নওহাটা বড়গাছি এলাকার মধুসুধনপুর গ্রামে ৪০ বিঘা কৃষি জমিতে পুকুর খনন চলছে। ১৫ ডিসেম্বর উপজেলার কুশিয়া বিলে পুকুর খনন করার সময় ম্যানেজার বিষ্ণু সরকারকে (৪৮) ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ১৮ ডিসেম্বর দুপুরে পুকুর খনন করার অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিন জনকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
উপজেলার পাকড়ী ইউনিয়নের নামো বিল্লি মাঠে ৩০ বিঘা ধানি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করার সময় হাতেনাতে ধরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ইমরানুল হক ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ সাজা প্রদান করেন। দুইটি (ইস্কেবেটর) ভেকু মেশিন অকেজো করার জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল জব্দ করা হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে পাকড়ী ইউনিয়নের নামো বিল্লি বিলের মাঠে ৩০ থেকে ৩৫ বিঘা করে তিনটি পুকুরে মোট ১০০ বিঘা ধানি জমিতে অবৈধভাবে পুকুর খনন করছিলেন।
উপজেলার কয়েকটিট ইউনিয়নের বিভিন্ন কৃষি জমিতেই চলছে এ পুকুর খননের চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালীরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে জমির প্রকৃতি পরিবর্তন করে পুকুর খনন চালিয়ে যাচ্ছে। আর খননের পর বেশির ভাগ মাটি ট্রাক্টরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সরকার বলেন, আমার মাত্র ১০ দিন হলো উপজেলায় যোগদান করা। এরই মধ্যে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি পুকুর খনন বন্ধ ও তিন জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং খননের কাজে ব্যবহ্নত সরঞ্জাম আটক করা হয়। ফসলি জমিতে কেউ যদি পুকুর খনন করে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। যদি কেউ পুকুর খনন করতে চাইলে আবেদনের পর সরেজমিন তদন্ত করে অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। তিনি আরো বলেন, কৃষি ফসল বিনষ্ট করে পুকুর খনন করা আরো বড়ো অপরাধ।
