ফেসবুক ও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:০৯

কিছুদিন পূর্বে ফেসবুক হইতে ৪২ কোটি ফোন নম্বর ফাঁস হইবার খবর জানা গিয়াছিল। সম্প্রতি শোনা গেল, ২৬ কোটি ৬৭ লক্ষ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত নানা তথ্য ফাঁস হইয়া গিয়াছে। ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ফেসবুকের জন্য যেন সাধারণ খবর হইয়া গিয়াছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করিতেছেন যে, ফাঁস হওয়া এই সকল তথ্য স্প্যামিং ও ফিশিংয়ের মতো প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার হইতে পারে।

ফেসবুকের মোহে পড়েন নাই, প্রযুক্তির সহিত উঠাবসা করা এমন মানুষ খুব কম আছেন। অনেক বেশি বিশ্বাস করিয়াই সব ধরনের মানুষ ফেসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের মনের ভান্ডার খুলিয়া দিয়া থাকেন। কিন্তু ইহা লইয়া কেহ মাথা ঘামায় না যে, ফেসবুক সেই সকল তথ্য লইয়া ব্যবসা করিতে পারে। মাথা ঘামাইবে কী করিয়া? ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলিবার শর্তাবলির ঢাউস লিস্টের কোথায় কী লেখা রহিয়াছে, কে তাহা খুঁটিয়া পড়িয়াছেন? আগে ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট খুলিবার সময় লেখা থাকিত— ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় বিনা মূল্যে। কিন্তু সেই বিনা মূল্যের সাইনবোর্ড হইতে চুপিসারে সরিয়া আসিয়াছে ফেসবুক। এখন লেখা থাকে—ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় খুব  দ্রুত এবং সহজে। ফেসবুকের নিকট ব্যক্তিগত তথ্য রাখাকে অনেক তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মনে করেন—ইহা যেন শিয়ালের কাছে তথ্য নামক মুরগিকে বর্গা দেওয়া। কিছুদিন পূর্বে সাবেক সিআইএ এজেন্ট এডওয়ার্ড স্লোডেন বলিয়াছেন, ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচা করিয়া যাহারা রোজগার করে তাহাদের বলা হয় নজরদারি সংস্থা, আজকাল সেইগুলিকেই বলা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম। স্পষ্টবাদীদের মতে, ঘোষণা দিয়া এমন ব্যবসা ফেসবুক করিতেই পারে, কিন্তু এই সামাজিক মাধ্যমটি এমন একটি ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করিতে চাহে যে, ‘ব্যক্তিগত তথ্যের’ সুরক্ষিত ভান্ডার ইহা। কিন্তু আদতে এই ফেসবুকই হইল অন্যতম বড়ো ফাঁদ। কত ধরনের মনোমুগ্ধকর অ্যাপস ছড়াইয়া রহিয়াছে ফেসবুক জুড়িয়া! স্বাস্থ্য হইতে শুরু করিয়া সৌন্দর্য এবং বিভিন্ন কৌতূহলোদ্দীপক অ্যাপগুলি মূলত তথ্য হ্যাকিংয়ের জাল। এই সকল মজার অ্যাপস যখন কেহ মনের আনন্দে ব্যবহার করেন, তখন বেখেয়ালে তাহার বিভিন্ন ব্যক্তিগত তথ্য চলিয়া যায় ফেসবুকের নিকট, আর সেই সকল তথ্য ফেসবুক বিক্রয় করিয়া থাকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনী সংস্থার নিকট, কাস্টমাইজড অডিয়েন্স ঠিক করিবার জন্য। ফেসবুকের প্রধান ব্যক্তি মার্ক জুকারবার্গ একাধিকবার ক্ষমা চাহিয়াছেন এই ধরনের তথ্য ফাঁসের ঘটনায়। বলিয়াছেন যে, ফেসবুক আসলে তথ্যচুরির ঘটনায় ‘পরিস্থিতির শিকার’। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ফেসবুক ‘পরিস্থিতির শিকার’ নহে, তাহারা আসলে এই পরিস্থিতির ভাগীদার।

সুতরাং সাধারণ মানুষকেও বুঝিতে হইবে কতটুকু তিনি ফেসবুকে নিজের গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করিবেন। বস্তুত ইহা মাথায় রাখিলেই হয় যে, ফেসবুকে ততটুকুই প্রকাশ করা উচিত, যতটুকু করিলে নিজের ‘গোপনীয়তা’ ক্ষুণ্ন হইবে না। তাহা ছাড়া কেবল ফেসবুক নহে, ইন্টারনেটের জগতে কোনো গোপন তথ্যই গোপন থাকে না শেষাবধি। সুতরাং সতর্ক থাকিতে হইবে ব্যবহারকারীকেই।