যন্ত্রপাতি সংকটে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৭

সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট

পিনাকি দাসগুপ্ত

সরকারি চাকরিতে চূড়ান্ত নিয়োগের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে ডোপ টেস্ট (মাদকদ্রব্য) বাধ্যতামূলক করা হলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংকটে রয়েছে মাদক দ্রব্য অধিদপ্তর (ডিএনসি)। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ডোপ টেস্টের জন্য যেসব সরঞ্জাম থাকার কথা সেটা এখনো কেনা হয়নি। পরীক্ষা করা হচ্ছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে (কিট টেস্ট)। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) একটি শাখা বর্তমানে সীমিত পরিসরে ডোপ টেস্টের কাজ করছে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ডোপ টেস্টের জন্য নির্ধারিত রয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল। সারাদেশে ডোপ টেস্ট চালুর ব্যাপারে এরই মধ্যে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হয়। এরপর থেকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের চিকিত্সা ও পুনর্বাসন শাখায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ চাকরি প্রত্যাশীদের তালিকা পাঠানো হচ্ছে ডোপ টেস্টের জন্য। কিন্তু সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই ডোপ টেস্টে মুখের লালা পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ সাত দিন, রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ দুই মাস, চুল পরীক্ষার মাধ্যমে শেষ ১২ মাস এবং স্প্যাইনাল ফ্লুইড পরীক্ষার মাধ্যমে গত পাঁচ বছরের মধ্যে কেউ মাদক গ্রহণ করলেও তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে। কিন্তু বর্তমানে শুধু ইউরিন (মূত্র) পরীক্ষার মাধ্যমে ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি শেষ ১০ দিনের ভেতর কোনো মাদক গ্রহণ করেছেন কিনা তা পরীক্ষায় ধরা পড়বে। মাদকদ্রব্য আইন, ২০১৮ এর ধারা ২৪(৪) বাস্তবায়নের জন্য জরুরিভিত্তিতে কমপক্ষে একটি অটোমেটিক ইউরিন (মূত্র) অ্যানালাইজার কেনা জরুরি বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এরআগে ডোপ টেস্টের জন্য কোনো ফি নির্ধারিত ছিল না। গত চলতি বছরের ১৫ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে ৯০০ টাকা ফি নির্ধারণ করে পরিপত্র জারি করা হয়। নন স্পেসিফিক পরীক্ষার জন্য ৬০০ টাকা (যার মধ্যে বেঞ্জোডায়াজেপিন, এমফেটামাইনস, অফিয়েটস ও কেননাবিনেয়েডস পরীক্ষাও রয়েছে) এবং অ্যালকোহল পরীক্ষার জন্য ৩০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। শুধু সরকারি চাকরি নয়, বেসরকারি চাকরি প্রত্যাশীদের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও সড়ক দুর্ঘটনা রোধে গত ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ডোপ টেস্ট শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরিবহন কর্মীদের আপত্তির মুখে বাস মালিকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান থেকে আপাতত পিছিয়ে আসে। সেটা কবে নাগাদ শুরু হবে সেটাও সংশ্লিষ্টরা বলতে পারছেন না।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী রাসায়নিক পরীক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য অধিদপ্তর নতুন প্রজেক্ট করেছে। আধুনিক মেশিনপত্র আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেটা হলে দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তির বিষয়টি নির্ধারণ করা যাবে। এখন যে প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা করা হচ্ছে, তাতে গত তিন মাসের মাদকাসক্তির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষার রেজাল্টও পাওয়া যাচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে। 

তিনি আরো বলেন, ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগে ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক করা হয়। কিন্তু কার্যক্রম শুরু হয় চলতি বছরের ২৮ সেপ্টম্বর থেকে। প্রথম দফায় ডেক্সোতে নিয়োগ প্রাপ্ত ৩০৪ জন প্রার্থীর ডোপ টেস্ট করা হয়। দ্বিতীয় দফায় করা হয় ২৪ জন নার্সের। বর্তমানে টেস্ট চলছে এনএসআইর ৯০২ জন নিয়োগ প্রার্থীর।

তিনি বলেন, টেস্ট করা হচ্ছে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে (কিট টেস্ট)। একজনের পরীক্ষার জন্য ৭টি টেস্ট করতে হয়। প্রতিদিন ৩০ জনের বেশি করা সম্ভব না।

এ দিকে পরিবহন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল গত ১ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন শ্রমিকদের ডোপ টেস্ট করা হবে। কিন্তু এখনো শুরু হয়নি। এটা হওয়া দরকার। এতে মালিক-শ্রমিক সবারই মঙ্গল। মাদক তো পরে, বাসের মধ্যে সিগারেট খেতেও চালক-হেলপারদের নিষেধ করা হয়েছে।