নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদীর মাধবদীতে যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূ খাদিজা আক্তার রুমার (২০) মৃত্যু হয়েছে। পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে গতকাল শনিবার ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে ঐ গৃহবধূর স্বামী বিপ্লব মিয়াকে আটক করে মাধবদী থানা পুলিশ। নিহত খাদিজা আক্তার রুমা নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী গ্রামের কাজল মিয়ার মেয়ে। অপরদিকে বিপ্লব মিয়া মাধবদীর গদাইচর গ্রামের দুলাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর সোমবার দুপুরে যৌতুকের টাকার জন্য গৃহবধূ খাদিজা আক্তার রুমার শরীরে তার স্বামী আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় খাদিজাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শনিবার ভোরে তিনি মারা যান।
নিহত খাদিজার বাবা কাজল মিয়া জানান, প্রায় দেড় বছর আগে রুমার সঙ্গে বিপ্লবের বিয়ে দেওয়া হয়। তাদের একটি সাত মাসের কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের ৩ লাখ টাকার জন্য বিপ্লব প্রায়ই খাদিজার ওপর নির্যাতন চালাত। টাকা দিতে না পারায় খাদিজাকে হত্যার উদ্দেশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
মাধবদী থানার ডিউটি অফিসার এসআই দিদারুল আলম জানান, এব্যাপারে নিহত খাদিজা আক্তার রুমার বাবা কাজল মিয়া বাদী হয়ে মাধবদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় রুমার স্বামী বিপ্লবকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
