ইত্তেফাক ডেস্ক
গত কয়েক দিন ধরে সারাদেশে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। বাতাস ও ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবন। দিনের অধিকাংশ সময়ই দেখা মিলছে না সূর্যের। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে বৃদ্ধ, শিশু ও খেটে খাওয়া মানুষ। এদিকে হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর।
কুড়িগ্রাম :আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, শনিবার ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে। শুক্রবার জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও উত্তরীয় হিমেল হাওয়া আর দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে এই অঞ্চলে। সন্ধ্যা নামার পরপরই রাস্তাঘাট জনমানব শূন্য হয়ে পড়ছে। কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ জন ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। রাত নামলেই শীতের সঙ্গে পড়ছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির ফোঁটা। অতিরিক্ত ঠান্ডায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এদের বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। গত তিন দিনে জেনারেল হাসপাতালে শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে অর্ধশতাধিক। ২৪ ঘণ্টায় ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তি হয়েছে আট জন।
পঞ্চগড় :তীব্র শীত আর কনকনে ঠান্ডায় দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে পঞ্চগড়ের গরিব, দুস্থ ও খেটে খাওয়া মানুষের জীবনযাত্রা। শীতবস্ত্রের অভাবে অচল হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। রাতে বৃষ্টির মতো শিশির পড়ছে। শহরে লোকজনের উপস্থিতি ও রাস্তাঘাটে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। বিকাল ৩টায় তেঁতুলিয়ায় সবোচ্চ ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। সরজমিনে দেখা গেছে, শহরের ফুটপাতসহ লেপ-তোশক ও শীতবস্ত্রের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। বিভিন্ন গলিতে অস্থায়ী পুরোনো কাপড়ের দোকানগুলোতে সমাগম ঘটছে নিম্ন আয়ের মানুষের। শীতের কারণে দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেকে কিনতে পারছেন না বলে জানায় ভোক্তভোগীরা। এরই মধ্যে শীতার্তদের মাঝে গভীর রাতে দ্বারে দ্বারে গিয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন। শুক্রবার গভীর রাতে জেলার বোদা উপজেলার সীমান্তবর্তী বড়শশী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের মাঝে কম্বল তুলে দেন তিনি।
