বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণকালে বিমানবন্দর এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাপর বিস্তারিত খবর জানা পাইলটদের জন্য আবশ্যক; কিন্তু ইহার ব্যত্যয় ঘটিতেছে বরিশাল বিমানবন্দরে। সেখানে আবহাওয়ার অনুমাননির্ভর তথ্যে চলিতেছে বিমানের উঠানামা। কারণ বরিশাল বিমানবন্দরে কোনো আবহাওয়ার ইউনিট নাই। তাহারা তথ্য পায় প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বরিশাল আবহাওয়া অফিস হইতে। দূরত্বের কারণে এই তথ্য যথাযথ না-ও হইতে পারে বলিয়া জানাইয়াছে বরিশাল আবহাওয়া অফিস। ইহাতে সপ্তাহে পাঁচ দিন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পাশাপাশি প্রতিদিন বেসরকারি ইউএস বাংলা ও নভোএয়ারের উড়োজাহাজ ঝুঁকি নিয়া চলাচল করিতেছে। প্রতিষ্ঠার ৩৪ বত্সর পরও বিমানবন্দরটির এই দশা কাম্য নহে। আকাশ থেকে শস্যখেতে কীটনাশক ছিটানোর কাজে ব্যবহারের জন্য ১৯৬৩ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নে প্ল্যান্ট প্রোটেকশন বন্দর হিসাবে ২ হাজার ফুট রানওয়ে নির্মাণ করা হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৮৫ সালে ইহাকে বিমানবন্দরে রূপান্তর করা হয়। ইহার পর ১৯৯৫ সালের ১৭ জুলাই হইতে দিনের বেলা ঢাকা-বরিশাল রুটে বাণিজ্যিক বিমানের চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে ১৬০ দশমিক ৫ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত বিমানবন্দরটি। বরিশাল আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গিয়াছে, প্রতিদিন সকাল ৭টা হইতে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল বিমানবন্দর তাহাদের নিকট হইতে বাতাসের গতি, দৃষ্টিসীমা, বাতাসের দিক, বাতাসের চাপ, মেঘের প্রকৃতি বিষয়ে তথ্য চাহিয়া থাকে। বিমান উঠানামার জন্য আবহাওয়ার ঐ মুহূর্তের তথ্যের প্রয়োজন; অপরদিকে আবহাওয়া প্রতিমুহূর্তেই পরিবর্তিত হইয়া থাকে, ফলে আবহাওয়া অফিস ও বিমানবন্দর এলাকার তথ্য এক হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে ঝুঁকিমুক্ত বিমান চলাচলের জন্য বিমানবন্দর এলাকায়ই আবহাওয়া ইউনিট স্থাপন করা আবশ্যকীয় হইয়া পড়িয়াছে।
ইহা ছাড়া বিমানবন্দরটির আরো কিছু সীমাবদ্ধতা রহিয়াছে। যেমন, বিমান চলাচলের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী রানওয়ের পাশে ৫০০ ফুট ফাঁকা জায়গা থাকা প্রয়োজন; কিন্তু বরিশাল বিমানবন্দরে আছে মাত্র ৩০০ ফুট জায়গা। অগ্নিনির্বাপণসহ উদ্ধার কার্যক্রমও মানসম্পন্ন নয়। পাশাপাশি এই বিমানবন্দরে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইকাও) নির্দেশনা অনুযায়ী রানওয়ে নেই। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরে যে ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল করিয়া থাকে, তাহাতে রানওয়ের দৈর্ঘ্য হইতে হইবে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ মিটার এবং প্রস্থ কমপক্ষে ৪৫ মিটার; কিন্তু এই বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ঠিক থাকিলেও প্রস্থ মাত্র ৩০ মিটার, যাহা প্রয়োজনের তুলনায় ১৫ মিটার কম।
সম্প্রতি বিমানবন্দরটিতে রাতের ফ্লাইট চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হইয়াছে। সেই লক্ষ্যে রানওয়ের লাইটিংসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পাদন করা হইতেছে। দক্ষিণাঞ্চলে নির্মিত পায়রা সমুদ্রবন্দর, পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা, বরিশাল ও পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ব্যাপক উন্নয়নের ফলে এই অঞ্চলে যাত্রীর চাপ ক্রমশ বৃদ্ধি পাইতেছে। ফলে বিমানবন্দরটির আধুনিকায়ন যত দ্রুত সম্ভব ঘটাইতে হইবে। আমরা আশা করি, আনুষঙ্গিক উন্নয়নের মাধ্যমে বিমানবন্দরটি নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব হইয়া উঠিবে।
