‘৭১-এ যারা আমাদের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে, যারা পাকহানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে গণহত্যা, নারী নির্যাতন, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধমূলক কাজে লিপ্ত ছিল অর্থাত্ রাজাকার, আলবদর, আলশামস, শান্তিকমিটি ও দালালদের অনেকেই সমাজে ও রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশ ও জাতির মঙ্গলের জন্যই তাদের অবশ্যই চিহ্নিত করতে হবে। রাজাকারদের তালিকা আরো আগে প্রকাশ করা হলে চিহ্নিত স্বাধীনতাবিরোধীরা সমাজে ও রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ পেত না। এই তালিকায় মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের অনেক নাম যেমন বাদ পড়েছে, তেমনি মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং মুক্তিযুদ্ধে যাঁরা শহিদ হয়েছেন, তাঁদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা অমার্জনীয় অপরাধ। ইচ্ছকৃতভাবেই এই উদ্যোগকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে কি না তা তদন্ত করে দেখা উচিত। আমাদের দেশে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে অনেকেই গবেষণা করতে গিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীতাকারীদের নামের তালিকা এবং তাদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। কাজেই পাকিস্তানিদের তালিকার সঙ্গে আমাদের গবেষকদের তালিকা মিলিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে উচিত ছিল তালিকাটি প্রকাশ করা। অবশ্য ইতিমধ্যে প্রকাশিত তালিকাটি বাতিল করা হয়েছে। কাজেই ভুল-ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করে নতুন তালিকা প্রকাশের ব্যবস্থা করা হোক। আশা করি, যে তালিকা প্রকাশ করা হবে তা হবে আরো সুবিন্যস্ত, যথাযথ ও বাংলায়।
বিপ্লব বিশ্বাস
গোয়ালচামট, ফরিদপুর
