গোয়ালন্দে পদ্মায় দুই ভাগ হয়ে ডুবে গেল পাথরবোঝাই ট্রলার

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৮

গোয়ালন্দের পদ্মা নদীতে পাথরবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে গিয়ে চার জন নিখোঁজ হয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউয়ালজানি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেও কাউকে উদ্ধার করতে সক্ষম না হওয়ায় উদ্ধারকাজে অবহেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা।

জানা যায়, পাবনা থেকে পাথরবোঝাই ট্রলারটি রাজবাড়ীর সদর উপজেলার গোড়ারবাজার ঘাট এলাকায় আসছিল। ট্রলারটি কাওয়ালজানি এলাকায় আসার পর প্রবল স্রোত ও অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই থাকার কারণে মাঝখান থেকে দুই ভাগ হয়ে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা ১০ জনের মধ্যে ছয় জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বাকি চার জন উঠতে পারেননি।

নিখোঁজ চার জন হলেন সিরাজগঞ্জ জেলার সাজাহান শেখের ছেলে নুরুজ্জামান শেখ (৪০), আলতাফ প্রামাণিকের ছেলে ফারুক প্রামাণিক (৪০), আবু শেখের ছেলে আব্দুল শেখ (৩৫) ও আমজাদ শেখের ছেলে আলামিন শেখ (৪৩)। ডুবে যাওয়া ট্রলারের বেঁচে যাওয়া আরোহী শাহানুর মিয়া (৪৫) জানান, যে চার জন ট্রলারের কেবিনের মধ্যে ছিলেন, তারা বের হতে পারেননি।

গতকাল শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও গোয়ালন্দ ঘাট থানার পুলিশ উদ্ধার তত্পরতা চালাচ্ছে। ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান নিশ্চিত হলেও তীব্র স্রোতে ডুবুরি দল উদ্ধারকাজ চালাতে সমস্যায় পড়েছে। অন্যদিকে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনেরা অপর একটি বড়ো ট্রলারের মাধ্যমে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি শিকল দিয়ে বেঁধে তোলার চেষ্টা করছিলেন। নিখোঁজদের স্বজন ও উদ্ধারকাজে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবীদের অনেকেই উদ্ধারকাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার অভিযোগ তোলেন। তাদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পার্শ্ববর্তী আরিচায় বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ রয়েছে। ঐ জাহাজ উদ্ধারকাজে যোগ দিলে হয়তো এতক্ষণে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা সম্ভব হতো।

বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মো. মাসুদুল হক জানান, তাদের উদ্ধারকারী জাহাজটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন হলেও দুর্ঘটনাস্থলে নদীর নাব্য কম থাকায় জাহাজটি সেখানে যেতে পারছে না। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেছেন।

রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সহকারী পরিচালক শওকত আলী বলেন, ‘ট্রলারডুবির ঘটনার পর আমাদের গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট গিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারে কাজ শুরু করে। পরে রাজবাড়ীর ইউনিট ও ঢাকা থেকে আসা ডুবুরি দল উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। কিন্তু তীব্র স্রোতের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইতিমধ্যে নৌবাহিনীর ডুবুরি দল রওনা দিয়েছে। তারা এসে উদ্ধারকাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।