ভারতে নাগরিকত্ব আইনের বিক্ষোভ ঘিরে ইন্টারনেট বন্ধ

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২০:৫৬

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক

 

নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) নিয়ে উত্তাল পুরো ভারত। রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ ছড়িয়েছে আসাম, মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, উত্তর প্রদেশ, তামিলনাড়ুসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে। বিক্ষোভে রাজপথে নেমে এসেছে সাধারণ মানুষ ও ছাত্ররা। বিক্ষোভ দমাতে গুয়াহাটি, দিল্লি, বারাণসীসহ দেশটির কয়েকটি শহরে ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি কিংবা আংশিক বন্ধ করে দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এবারই প্রথম নয়, এর আগে জম্মু-কাশ্মীরের স্বতন্ত্র রাজ্যের সাংবিধানিক মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার সময়ও উপত্যকায় দীর্ঘদিন ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রেখেছিল নরেন্দ্র মোদি সরকার। দেশটির এ প্রবণতা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হয়েছে।

শুধু কাশ্মীর কিংবা সিএএ ইস্যু নয়, বিভিন্ন সময়ই ছোটো-বড়ো নানা বিক্ষোভে ইন্টারনেট বন্ধের কৌশল নিয়েছে ভারত সরকার। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হন। ওই বছর দেশটিতে ছয়বার ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি কিংবা আংশিক বন্ধ করা হয়েছিল। ২০১৮ সালে এসে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩৪। এ সময় বিশ্বজুড়ে যতগুলো সরকারি উদ্যোগে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে ভারতে সংঘটিত হয়েছে ৬৭ শতাংশ। আর চলতি বছরের ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে সব মিলিয়ে ৯৩ বার ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি কিংবা আংশিক বন্ধ করা হয়েছে।

ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নে বিশ্বের বুকে সবচেয়ে এগিয়ে আছে ভারত। স্ট্যাটিস্টার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ভারতে সবচেয়ে বেশি ১৫৪ বার ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি কিংবা আংশিক বন্ধ করা হয়েছে। পরের অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তান। এ সময় দেশটিতে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনা ঘটেছে ১৯ বার। একই সময়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরাক ও সিরিয়ায় আটবার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল।