পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ১৪৫টি ভাটা
মিলন রহমান, স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া
বগুড়া পৌরসভা এলাকায় এখনো ২৫টি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। ছয় বছর আগে পৌরসভা এলাকায় ইটভাটার কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে পরিপত্র জারি করে সরকার।
বগুড়ায় অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২২১ ইটভাটার মধ্যে ১৪৫ ভাটা পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে। বগুড়া জেলায় ১২০ ফুটবিশিষ্ট চিমনি, জিগজ্যাগ কিলন এবং আধুনিক প্রযুক্তির হাইব্রিড হফম্যান কিলন সুবিধার ইটভাটার সংখ্যা মোট ২২১টি। এর মধ্যে জিগজ্যাগ কিলন ১২২টি। আর ১২০ ফুট চিমনি বিশিষ্ট সনাতন পদ্ধতির ভাটার সংখ্যা ৯১টি। অবশিষ্ট ৯টি ইটভাটা হাইব্রিড হফম্যান কিলন বা আধুনিক পদ্ধতির বিশিষ্ট এসব ভাটার মধ্যে ১৪৫ ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। ২০১২ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জিগজ্যাগ কিলন ব্যতীত ১২০ ফুট বিশিষ্ট চিমনি ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ রয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৩ সালের ১৩ অক্টোবর জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইট পোড়ানো সংশোধন আইন-২০০১ এর ৩ (৫) ধারা মোতাবেক দেশের সকল সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা বা বর্ধিত এলাকা থেকে ৩০ জুন, ২০১৪ তারিখের মধ্যে সব ধরনের ইটভাটা অপসারণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান জানান, অবৈধ ইটভাটার মধ্যে বগুড়া সদর উপজেলায় পাঁচ, কাহালুতে ১০, শাজাহানপুরে ৩৭, শেরপুরে ১০, শিবগঞ্জে ৩৪, দুপচাঁচিয়ায় ছয়, ধুনটে ১০, সারিয়াকান্দিতে এক, সোনাতলায় তিন, আদমদীঘিতে ছয় এবং গাবতলী উপজেলায় ২৩টি ভাটার কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকা ইটভাটার সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে শাজাহানপুর, শিবগঞ্জ ও গাবতলী উপজেলা। এর মধ্যে শাজাহানপুর উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা বর্তমানে ৩৭টি। এই ৩৭ ইটভাটার মধ্যে ২৫টি ভাটার অবস্থান বগুড়া পৌরসভার সীমানার ভিতরে। আইন অনুযায়ী এসব ইটভাটা পৌরসভার সীমানা থেকে ২০১৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভাটামালিকেরা হাইকোর্টে দফায় দফায় রিট মামলা করে উচ্ছেদ কর্মকাণ্ডের ওপর ছয় মাস পরপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়ে এসে ইট পোড়ানোর কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। আইনি মারপ্যাঁচের কারণে প্রশাসন এসব ইটভাটা উচ্ছেদ করতে পারছে না। বগুড়া পৌরসভা এলাকার ২৫টি ইটভাটার মধ্যে ১৯টি সনাতনী পদ্ধতির এবং বাকিগুলো জিগজ্যাগ পদ্ধতির। সনাতনী পদ্ধতির ৯টি ইটভাটা উচ্ছেদে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অন্য ১৬টি ভাটা উচ্ছেদে আইনগত কোনো বাধা নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বগুড়া পৌরসভার ঘনবসতিপূর্ণ লোকালয় ঘেঁষে এসব ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে। ভাটার পাশেই রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, বিদ্যুেকন্দ্রসহ নানা স্থাপনা। বগুড়া শহরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুজাবাদ, বেজোড়া, নিশ্চিন্তপুর এলাকায় লোকালয় ঘেঁষে বহু ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে।
শাজাহানপুর উপজেলা ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারের আইন মেনে ভাটার কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। তিনি বলেন, পৌরসভা এলাকার কয়েকটি ভাটার হাইকোর্টে রিট করা রয়েছে, আর সেসব ভাটার রিটের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে সেসব ভাটার কার্যক্রম আরো এক বছর চালানোর জন্য গত অক্টোবরে পরিবেশ অধিদপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তরের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, অবৈধ ১৪৫টি ইটভাটার মধ্যে প্রথম দফায় ১২০ ফুট বিশিষ্ট ভাটা উচ্ছেদে অভিযান চলছে এবং আগামীতেও চলবে। বগুড়া পৌর এলাকার সাতটি ইটভাটা ইতিমধ্যেই উচ্ছেদ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ২৫ ভাটার মধ্যে যেগুলো উচ্ছেদে আইনগত বাধা নেই সেগুলোর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে।
এ ব্যাপারে বগুড়ার জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, ‘অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। আইন অনুযায়ী পৌরসভার মধ্যে কোনো ইটভাটা থাকতে পারবে না। হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তির জন্য আইনজীবী নিয়োগে পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’
