ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশন ভবনে এ দুই সিটি নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। এবারে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ঐদিন সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ করা হবে।
সিইসি কে এম নূরুল হুদা জানান, নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময় ৩১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৫ জানুয়ারি। প্রতীক বরাদ্দ করা হবে ১০ জানুয়ারি। মেয়র পদে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে ভোট করতে পারবেন; তবে সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর পদে ভোট হবে নির্দলীয় প্রতীকে। এদিকে ডিএনসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে ইসির যুগ্মসচিব আবুল কাসেম ও ডিএসসিসির রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে যুগ্মসচিব আবদুল বাতেনকে নিয়োগ করা হয়েছে। বিদ্যমান ভোটার তালিকা দিয়েই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে নির্বাচন করা হবে। সম্প্রতি দুই সিটির সম্প্রসারিত ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের সংরক্ষিতসহ ৪৮ জন কাউন্সিলর জানুয়ারিতে নির্বাচন না করতে কমিশনে আবেদন করেন। তাদের দাবি ছিল, নতুন ওয়ার্ডে নির্বাচন করলে উচ্চ আদালতে যাবেন তারা। তবে ইসির নির্ধারিত সময়ে ঐসব ওয়ার্ডেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ৫৪টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৮টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশেন (ডিএনসিসি)। এ নির্বাচনে ১ হাজার ৩৪৯টি ভোটকেন্দ্রের ৭ হাজার ৫১৬টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে ৩০ লাখ ৩৫ হাজার ৬২১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
অন্যদিকে ৭৫টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ২৫টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি)। এ নির্বাচনে ১ হাজার ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৫ হাজার ৯৯৮টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪৮৮ ভোটার এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। তবে উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক মৃত্যুবরণ করলে সেখানে উপনির্বাচন হয় চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি।
সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, করপোরেশনের মেয়াদ হচ্ছে প্রথম সভা থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর। আর ভোটের আয়োজন করতে হয় মেয়াদপূর্তির আগের ১৮০ দিনের মধ্যে। নির্বাচনের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয় ঐ বছরের ১৪ মে। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সভা হয় ১৭ মে। এ হিসাবে ঢাকা উত্তরের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের ১৩ মে। আর দক্ষিণে ১৬ মে। এদিকে তপশিল ঘোষণা করায় আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আগাম প্রচারণামূলক সব পোস্টার-বিলবোর্ড নিজ দায়িত্বে নামিয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে ইসি। ঢাকা উত্তর সিটিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হবে বনানী কমিউনিটি সেন্টার ; দক্ষিণ সিটিতে মতিঝিল কমিউনিটি সেন্টার (সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা যায়।
