রাষ্ট্রপতি ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে দেশ ও জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রস্থল। জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি মূল্যবোধ লালন, নীতি-নৈতিকতা, দেশপ্রেম উত্সারিত করার শ্রেষ্ঠ ক্ষেত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হচ্ছে যুক্তি ও সত্যের অনুসন্ধান, নতুন নতুন জ্ঞান সৃজন এবং মানব কল্যাণে তার ব্যবহার, প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে মানুষের সমস্যা সমাধানসহ দেশ ও জাতি নির্বিশেষে মানবজাতির ভবিষ্যত্ পথের নির্দেশনা। তিনি গতকাল রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে এ কথা বলেন।
চ্যান্সেলর মো. আবদুল হামিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য, অর্জন জাতিকে যেমন অনুপ্রাণিত করে, জাতীয় জীবনে উদ্যম ও গতিশীলতা সৃষ্টি করে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অপ্রত্যাশিত সংবাদ ও ঘটনা জাতির মননে এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তিনি আশা প্রকাশ করেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের নবতর শাখার বিকাশ ঘটিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হবে। তিনি বলেন, খুলনাঞ্চলে রয়েছে জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ ঐতিহ্যবাহী সুন্দরবন ও সামুদ্রিক সম্পদ সমৃদ্ধ বিশাল উপকূল। আমি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের এ জীববৈচিত্র্য ও উপকূলীয় মূল্যবান সম্পদ বিষয়ে গবেষণায় অধিক মনোনিবেশের আহ্বান জানাই।
রাষ্ট্রপতি বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্পেনের সিগমো ল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের স্কপাস পরিচালিত জরিপে আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ের তালিকায় প্রবেশ করে এ বছর দেশের মধ্যে উদ্ভাবনীতে প্রথম ও গবেষণায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেছে। অধীত বিদ্যার প্রয়োগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের রাইঙ্গামারী গ্রামকে ল্যাবরেটরি ভিলেজ করা হয়েছে। এ জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।
গ্র্যাজুয়েটদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমাদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। মনে রাখতে হবে ৩০ লাখ শহিদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত উত্তরসূরি তোমরা। তোমরা এ দেশকে এগিয়ে নেবে সুন্দর আগামীর পথে, সমৃদ্ধির পথে। মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষিত করে। অনেক সময় দেখে মনে হয় দেশটা ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর কাজী শহীদুল্লাহ, সমাবর্তন বক্তা ছিলেন প্রফেসর ড. অনুপম সেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান ও স্বাগত বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ।
উল্লেখ্য, খুবির ৬ষ্ঠ সমাবর্তনে ৪ হাজার ৪৭৮ জনকে স্নাতক, ২ হাজার ৫৩০ জনকে স্নাতকোত্তর, পাঁচ জনকে এমফিল ও আট জনকে পিএইচডি এবং ১৭ জনকে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন অ্যাডুকেশন ডিগ্রি প্রদান করা হয়। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের (অনুষদ) পরীক্ষার ফলাফলে অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ২৩ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলর গোল্ড মেডেল প্রদান করা হয়।
