ঢাকার দুই সিটি নির্বাচন

যোগ্য প্রার্থী পেতে মাঠ জরিপ আওয়ামী লীগের

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:২৬

আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যোগ্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী বাছাই করতে এরই মধ্যে মাঠ জরিপ করেছে আওয়ামী লীগ। শীর্ষ কয়েক নেতা ও বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এ জরিপ চালান আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে—এমনটি ধরে নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, দলের জন্য নিবেদিত, নিজ এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ও অধিকতর জনপ্রিয়—এমন যোগ্য নেতাদের মেয়র পদে মনোনয়ন এবং কাউন্সিলর পদে সমর্থন দিতে চায় আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে আওয়ামী লীগে এখন চুলচেরা বিশ্লেষণ, পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা চলছে। এক্ষেত্রে সাংগঠনিক দক্ষতার পাশাপাশি ব্যক্তি-জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখা হচ্ছে।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপি সভায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে যথাসময়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। জানা গেছে, বৈঠকে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে। উল্লেখ্য, মেয়র পদে প্রার্থীরা দলীয় প্রতীকে ভোট           করতে পারবেন; তবে সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর পদে ভোট হবে নির্দলীয় প্রতীকে। সেক্ষেত্রে এবার মেয়র পদে মনোনয়ন এবং কাউন্সিলর পদে একক প্রার্থী সমর্থন দেবে আওয়ামী লীগ। তবে ২৮ ডিসেম্বরের বৈঠকে শুধু মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করার এজেন্ডা রয়েছে। এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র বিতরণ আগামী ২৫ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে। আগামী ২৫, ২৬ ও ২৭ ডিসেম্বর যথাক্রমে বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদনপত্র সংগ্রহ এবং ২৭ ডিসেম্বর শুক্রবার বিকাল ৫টার মধ্যে আবেদনপত্র জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, বর্তমান মেয়র, কাউন্সিলর ও সম্ভাব্য দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কর্মকাণ্ড আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের পাঁচ নেতা জানান, ঢাকার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে জরিপ চালানো হয়েছে। যেসব প্রার্থী নিজের জনপ্রিয়তা দিয়ে জয়লাভ করতে পারবেন, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে। মেয়র পদেও সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী দেওয়ার ব্যাপারে কাজ চলছে। এদিকে মেয়র পদে দলের বেশ কয়েক জন প্রভাবশালী নেতা মনোনয়ন পেতে জোর তত্পরতা চালাচ্ছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র আতিকুল ইসলাম ছাড়াও পাঁচ জন আলোচনায় আছে। দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে বর্তমান মেয়র সাঈদ খোকন ছাড়াও আরো চার জন আলোচনায় আছেন।  ঢাকা মহানগরে মোট ১৩২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৭৫টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা ইতিমধ্যে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ওয়ার্ড পর্যায়ে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও দেখা মিলছে তাদের। দিবসভিত্তিক কর্মসূচিতেও শোডাউন করছেন কেউ কেউ। বিভিন্ন দিবসের শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে স্থানীয়ভাবে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।

রাজধানীবাসীর সেবার মানবৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর ঢাকা সিটি করপোরেশনকে উত্তর-দক্ষিণ দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এর প্রায় চার বছর পর দুই সিটিতে নির্বাচন হয়। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই মেয়র প্রার্থী আনিসুল হক ও মোহাম্মদ সাঈদ খোকন বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর মারা যান ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হক। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে দলীয় প্রতীক নিয়ে মেয়র পদে বিজয়ী হন ব্যবসায়ী নেতা মো. আতিকুল ইসলাম।