সোনারগাঁও উপজেলার চেঙ্গাকান্দি এলাকার প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো এ সেতু এখন জীর্ণ হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। যে কোনো মুহূর্তে এটি ভেঙে পড়ে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সরু এ সেতু দিয়ে যান চলাচলেও যথেষ্ট সমস্যা হয়। এলাকাবাসী জানায়, পিরোজপুর ইউনিয়নে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশেই চেঙ্গাকান্দি গ্রামের মাথায় এ সেতুর অবস্থান। তবে যে খালের ওপর ৪০ বছর আগে এ সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল, সেই খালের এখন আর বলতে গেলে কোনো অস্তিত্ব নেই। দুই পাশ ভরাট হয়ে বাড়িঘর নির্মাণ করা হয়ে গেছে। কালের সাক্ষী হিসেবে জীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে সেতুটি। সেতুর একপাশে স-মিলের রাস্তা আর অন্য পাশে সনি এসআর কোম্পানির সীমানাপ্রাচীর। যতটুকু নিচু জমি রয়েছে সেটা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে কোনোকালে খাল বা কোনো নদী ছিল। এখানে বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিও আসে না। আবার সেতুটি এতটাই সরু যে, দুটি রিকশা একসঙ্গে আসা-যাওয়া করতে পারে না। কে আগে সেতু পার হবে, এ নিয়ে অনেক সময় ঝগড়াও বেধে যায়। কখনো কখনো রিকশা, সাইকেল, মোটরসাইকেলের ধাক্কায় পথচারীরা আহত হন। সেতুটির রেলিং ভাঙা থাকায় যাত্রীসহ রিকশা পাশের গর্তে পড়ে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনা ঘটেছে বেশ কয়েকবার। এলাকাবাসী মনে করছেন, এখন আর সেতুটি তাদের প্রয়োজন নেই বরং সেতুটি ভেঙে ভালো করে সড়ক তৈরি করে দিলে নির্বিঘ্নে গাড়িসহ সবাই যাতায়াত করতে পারবে।
এ ব্যাপার চেঙ্গাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা নোয়াব প্রধান বলেন, ‘সেতুটি প্রায় ৪০ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছিল মানুষের চলাচলের জন্য, গাড়ি চলাচলের জন্য নয়। এখন রাস্তাঘাট উন্নত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ এ সেতু ভেঙে তার জায়গায় মাটি ভরাট করে সড়ক করে দেওয়ার জন্য ওয়ার্ড মেম্বার ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে জানিয়েছি বহুবার কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’
পিরোজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নুরুজ্জামান নুরু বলেন, ‘আমার পক্ষে একা এ সেতু ভেঙে নতুন রাস্তা করা সম্ভব না। আমি একাধিকবার চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুমকে বিষয়টি বলেছি, কিন্তু কোনো কাজ হচ্ছে না।’ এ ব্যাপারে জানতে পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান মাসুমকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
