‘ইত্তেফাক’ প্রকৃত অর্থেই সমাজের দর্পণ

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:০৫

গণমাধ্যমের এই বহুল চর্চিত সময়ে নিজেদের সম্পাদকীয় নীতি থেকে শুরু করে পত্রিকার বিন্যাস সবকিছুতে দেশের প্রতি কমিটমেন্ট ধরে রাখাটা একটা অগ্নিপরীক্ষা। কারণ, এখন অনেকেই পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী পত্রিকা সাজানোর চেষ্টা করে। তাতে আদর্শচ্যুতির আশঙ্কা থাকে। কিন্তু দৈনিক বা গণমাধ্যমের উচিত পাঠককে সুগঠিত করা। সেই কাজটিই করে আসছে দৈনিক ‘ইত্তেফাক’। যার ওপর পাঠকরা নির্ভর করতে পারে।

আর একটা বিষয়ে ‘ইত্তেফাক’-এর বিশেষভাবে ধন্যবাদ প্রাপ্য। তাহলো দৈনিকটিতে কোনো কিছুতেই অতি বাড়াবাড়ি নেই। পৃথিবীর বড়ো বড়ো গণমাধ্যম সিএনএন, আল জাজিরা, বিবিসির জন্মদিন কবে? কবে তারা জন্মোত্সব পালন করেছে, আমরা কেউ বলতে পারব না। কিন্তু আমাদের দেশে এটি আলাদা উত্সবে পরিণত হয়েছে। আমি এটি পালনের বিপক্ষে নই। কিন্তু বাড়াবাড়ির বিপক্ষে। ‘ইত্তেফাক’ সে বাড়াবাড়ি কখনোই করেনি। এছাড়া আমি সব সময় বলি, আমাদের কিছু কিছু প্রবাদ বাক্যের ভুলের কথা। যেমন, আমরা বলি, ‘পানির অপর নাম জীবন।’ না, এটা ঠিক নয়। বাক্যটি হবে, ‘বিশুদ্ধ পানির অপর নাম জীবন।’ আমরা বলি, ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।’ এটা হবে, ‘সুস্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।’ তেমনি আমরা বলি, ‘দৈনিক পত্রিকা হলো সমাজের দর্পণ।’ এটাও ঠিক না। সকল দৈনিকই সমাজের দর্পণ হতে পারে না। সঠিক বাক্যটা হবে, ‘মানসম্পন্ন দৈনিকই হলো সমাজের দর্পণ।’ ‘ইত্তেফাক’ আমাদের কাছে তাই প্রকৃত অর্থেই সমাজের দর্পণ।

 

[ গণমাধ্যমব্যক্তিত্ব ]