দুই দলের সামনেই ছিল এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ। বিগ স্কোরের ম্যাচ হয়তো হয়নি। তবে লড়াই হয়েছে বেশ। ম্যাচে নাটকীয়তাও ছিল। অবশ্য সেই নাটকীয়তার মূলে ছিলেন আম্পায়াররা। আউট হয়ে ড্রেসিরুমে গিয়ে প্যাড খুলে বসা ভানুকা রাজাপক্ষে আবার ২২ গজে ফিরেন ‘নো বল’ এর বদৌলতে। কিন্তু নো বল ডাকতে আম্পায়াররা এতই বিলম্ব করেছিলেন যে, ব্যাটসম্যানকে ফেরানোটা বিতর্কের অবতারণ করেছিল।
লাইফ লাইন পেয়ে কুমিল্লা ওয়ারিয়র্সের এই ওপেনার খেলেছেন ৯৬ রানের ইনিংস। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি কুমিল্লার। গতকাল সাগরিকায় তুমুল লড়াইয়ের ম্যাচে এক বল আগে জয় তুলে নেয় ঢাকা প্লাটুন। মেহেদী হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যই ঢাকার জয়ের মূল রসদ। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে গতকাল কুমিল্লাকে ৫ উইকেটে পরাজিত করেছে ঢাকা।
রাজাপক্ষের হাফ সেঞ্চুরিতে আগে ব্যাট করা কুমিল্লা ৩ উইকেটে ১৬০ রান তুলেছিল। মেহেদী হাসানের হাফ সেঞ্চুরি ও শেষ দিকে মুমিনুল হক-শহীদ আফ্রিদির ব্যাটিং দৃঢ়তায় ১৯.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬১ রান তুলে ম্যাচ জিতে নেয় ঢাকা। ৫ ম্যাচে ঢাকার এটি তৃতীয় জয়। সমান সংখ্যক ম্যাচে কুমিল্লার এটি তৃতীয় হার। বোলিংয়ে ৯ রানে ২ উইকেট ও ব্যাটিংয়ে ৫৯ রান করা মেহেদী ম্যাচ সেরা হন।
সাগরিকায় টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামে কুমিল্লা। মেহেদী হাসানের শিকার হয়ে ৩৩ রানের মাঝেই ফিরেন সৌম্য সরকার (১০) ও সাব্বির (০)। ইনিংসের ৫ম ওভারে ঘটে সেই নাটকীয়তা। ওয়াহাব রিয়াজের পঞ্চম বলে ক্যাচ তুলেন ২০ রানে থাকা রাজাপক্ষে। ফিল্ডার ক্যাচ তালুবন্দী করলে আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করে ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা ধরেন তিনি। নতুন ব্যাটসম্যান ইয়াসির আলীও উইকেটে চলে আসেন। তখন টিভি রিপ্লেতে দেখা যায় ওয়াহাবের বলটি ছিল ‘নো’। তখন মাঠের আম্পায়াররা ডেকে পাঠান ব্যাটসম্যানকে। ততক্ষণে রাজাপক্ষে প্যাড খুলে ফেলেছেন। আম্পায়ারদের সিদ্ধান্তে আবার মাঠে ফিরতে হয় তাকে।
ঢাকার ক্রিকেটাররা তর্ক-বিতর্ক করেছেন আম্পায়ারদের সাথে। কিন্তু মাঠ ছাড়ার পরও রাজাপক্ষের এই ফেরায় আইনের লঙ্ঘন হয়নি। কারণ আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনের ৩১.৭ ধারা অনুযায়ী, পরের বলের জন্য বোলার দৌড় শুরু করার আগ পর্যন্ত আউট হওয়া ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে আনতে পারেন মাঠের আম্পায়ার।
ফিরে আসা রাজাপক্ষের ব্যাটেই লড়াইয়ের পুঁজি পেয়েছিল কুমিল্লা। চতুর্থ উইকেটে ইয়াসির আলীর সঙ্গে ১০৩ রানের জুটি গড়েন এই লঙ্কান ওপেনার। ৬৫ বলে ৯৬ রান (৪ চার, ৭ ছয়) করে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ইয়াসির আলী অপরাজিত ৩০ রান করেন। ঢাকার মেহেদী হাসান ২টি, শাদাব ১টি উইকেট পান।
ঢাকার লম্বা ব্যাটিং লাইনের জন্য ১৬১ রানের টার্গেটটা বড়ো চাপ ছিল না। সেটিকে আরো সহজ করে দেয় মেহেদী হাসানের ঝড়ো ব্যাটিং। ইনিংসের ষষ্ঠ বলে বিজয় (০) আউট হলে চমক হিসেবে এই তরুণকে তিনে পাঠায় ঢাকা। ২২ বলেই হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। পঞ্চম ওভারে রবিউলের বলে চারটি ছক্কা, একটি চার মারেন তিনি। ২৯ বলে ৫৯ রান (২ চার, ৭ ছয়) করেন মেহেদী হাসান।
তারপরও কুমিল্লার বোলাররা বিশেষ করে মুজিব উর রহমান বারবারই ধাক্কা দিয়েছেন ঢাকাকে। তামিম ৩৪ রান করে ফিরেন। আসিফ আলী, জাকের আলী পরপর দুই বলে মুজিবের শিকার হন। ষষ্ঠ উইকেটে মুমিনুল-আফ্রিদি ৩৯ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। মুমিনুল অপরাজিত ২৮, আফ্রিদি অপরাজিত ২৬ রান করেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
কুমিল্লা ওয়ারিয়র্স : ২০ ওভারে ১৬০/৩
ঢাকা প্লাটুন : ১৯.৫ ওভারে ১৬১/৫
ফলাফল : ঢাকা প্লাটুন ৫ উইকেটে জয়ী
ম্যাচ সেরা : মেহেদী হাসান (ঢাকা)
