আফগানিস্তানে নির্বাচন প্রসঙ্গে

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১২

আফগানিস্তানে বহুল প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রাথমিক ফল প্রকাশ হইয়াছে রবিবার। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ  প্রদত্ত হিসাব মোতাবেক নির্বাচনে প্রায় ৫১ শতাংশ ভোট অর্জন করিয়া সুস্পষ্টভাবে অগ্রগামী আছেন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তাহার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের প্রধান নির্বাহী ড. আবদুল্লাহ ৪০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট লইয়া দ্বিতীয় স্থানে আছেন। অবশ্য আবদুল্লাহ ইতোমধ্যেই নির্বাচনি ফল মানিয়া না লইবার ঘোষণা দিয়াছেন। উল্লেখ্য, অক্টোবর মাসে ঘোষণা হইবার কথা থাকিলেও, আবদুল্লাহ-সমর্থকদের দেশব্যাপী নানামুখী বাধাদানের ফলে বত্সরের একেবারে শেষে আসিয়া ফলাফল ঘোষণায় সক্ষম হইয়াছে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ। পিছনে ফিরিয়া তাকাইলে দেখা যায়, আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাস খুব সুখকর নহে। আফগানিস্তান ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের করতলে। সেই সোভিয়েত ইউনিয়নকে আফগানিস্তান হইতে তাড়াইতে যুক্তরাষ্ট্র ঢুকিয়া পড়িয়াছিল আফগানিস্তানে। নিয়াছিল পাকিস্তানের সহায়তা। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করিয়া, আফগানিস্তানের জনগণকে ধর্মের নামে ব্যবহার করিয়া তাহারা সোভিয়েত ইউনিয়নকে আফগানিস্তানের মাটি হইতে বিতাড়িত করে। কিন্তু যখনই নিজস্ব কাজ হাসিল হইয়া যায়, অর্থাত্ সোভিয়েত ইউনিয়নকে বিতাড়িত করিবার কাজ সম্পন্ন হয়, তখনই যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটিবার চিন্তা করে। আর বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট তাহার আমেরিকা ফার্স্ট পলিসি লইয়া কোনোক্রমেই আর আফগানিস্তানে কোনো ধরনের ব্যয় নির্বাহ করিতে রাজি নহেন। তাহার অর্থ আফগানদেরকেই আফগানিস্তানের ভবিষ্যত্ দেখিতে হইবে।

বর্তমানে সরকারি বাহিনীর শিথিলতার সুযোগে তালেবানরা সারাদেশ জুড়িয়া নিজেদের অবস্থান শক্ত করিয়া তুলিতে সমর্থ হইয়াছে। এই রকম একটি অবস্থায়, রবিবারের ফলের মধ্য দিয়া চার দশক ধরিয়া গৃহযুদ্ধ আক্রান্ত দেশটি শান্তির পক্ষে কতটুকু অগ্রসর হইতে পারিবে তাহা নিশ্চিত করিয়া বলিবার উপায় দেখা যাইতেছে না। একদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচমকা কতগুলি কথাবার্তার মধ্য দিয়া আমেরিকা-তালেবান আলোচনা থামিয়া গিয়াছে। এই আলোচনা কবে আবার শুরু হইবে তাহা অনিশ্চিত। আবার এই আলোচনাতে তালেবানরা কখনোই আফগান সরকারকে অন্তর্ভুক্তকরণে রাজি হয় নাই। স্মর্তব্য, তালেবানরা ঘানি-আবদুল্লাহর সরকারকে আমেরিকানদের তাঁবেদার মনে করে। এমতাবস্থাতে এইবার নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হইবার পরে পরিস্থিতি কোন পথে অগ্রসর হইবে তাহা অনুমান করা যাইতেছে না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রবিবার ঘোষিত ফলকে স্বাগত জানাইয়াছে। কিন্তু এই ঘোষণা ঘানি বা আবদুল্লাহর দ্বন্দ্ব নিরসনে এতটুকু ভূমিকা রাখিবে বলিয়া মনে হইতেছে না। বরং চূড়ান্ত ফলকে কেন্দ্র করিয়া এই দুই পদাধিকারী দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাড়িয়া যাইবে বলিয়াই মনে হইতেছে। পরিস্থিতিদৃষ্টে, গৃহযুদ্ধে বিদীর্ণ আফগানদের জন্য নূতন বত্সর কোনো শুভ সংবাদ বহিয়া আনিবে বলিয়া মনে হইতেছে না। সেপ্টেম্বর মাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করিয়া কেবল রাজধানী কাবুলেই দেড় শতের মতো প্রাণহানির ঘটনা ঘটিয়াছে। সামনের দিনগুলিতে নিতান্ত হতভাগ্য এই দেশটিতে আহত-নিহতের সংখ্যা কোথায় যাইয়া ঠেকিবে তাহা কে বলিতে পারে!