শুভ জন্মদিন দৈনিক ইত্তেফাক

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:১৫

দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পত্রিকা— দৈনিক ইত্তেফাক। ১৯৫৩ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে নানা চড়াই-উতরাই পার করে দীর্ঘ ৬৬ বছর অতিক্রম করে আজ ৬৭তম বছরে পদার্পণ করেছে। এই শুভক্ষণে পত্রিকাটিকে জানাই জন্মদিনের অনেক অনেক শুভেচ্ছা।

১৯৪৭ সালের দেশ বিভাজনের পর থেকে একটি পত্রিকার প্রয়োজন ছিল বলেই সে পত্রিকাটির জন্ম হয় এবং গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে যে পত্রিকাটি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে সেটি হলো ইত্তেফাক। বাংলাদেশের শোষিত মানুষের কণ্ঠ হিসেবে কাজ করেছে। তত্কালীন সব অন্দোলনের অন্যতম সমর্থক ও প্রচারক হিসেবে কাজ করেছে এই পত্রিকাটি। যা আন্দোলনকে জনতার মধ্যে পৌঁছে দিয়েছে এবং আমাদেরকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে।

১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে তত্কালীন পাকিস্তান ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকারের যে ভরাডুবি হয় এর পেছনে মূল অবদান রাখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা ও সম্পাদক মানিক মিয়ার শক্তিশালী লেখনী। যুগে যুগে মত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করা রাষ্ট্রের নিত্যকর্মে পরিণত হয়ে থাকে। ইত্তেফাকও এর ঊর্ধ্বে নয়। পাকিস্তান আমলে পত্রিকাটিকে কয়েক বার বন্ধ করে দেওয়া হয়, এর অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সম্পাদক তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়াকেও কয়েক বার গ্রেফতার করা হয়। এত বাধার পরও এর প্রকাশনা আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত গণমানুষের কথা বলে আসছে দৈনিক ইত্তেফাক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও ইত্তেফাকের বিরাট ভূমিকা ছিল। তাছাড়াও বাংলাদেশের প্রত্যেকটি আন্দোলন-সংগ্রামে ইত্তেফাক সত্যনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছে। দেশ ও জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে বরাবরই ভূমিকা রেখে আসছে বাংলার গণমানুষের দৈনিক ইত্তেফাক। আমরা আশা করব, আগামী দিনগুলোতে ইত্তেফাক আরো উন্নতি লাভ করবে এবং বাংলাদেশের ঘরে ঘরে সত্য সংবাদ পৌঁছে দেবে। গণমানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হোক ইত্তেফাক—এমনটিই কামনা।

n লেখক :শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়